মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে শেরপুরের পবিত্র ভূমিতে কুখ্যাত আলবদর কমান্ডার কামারুজ্জামানের দাফন হবে না— এ দাবিতে সোচ্চার কামারুজ্জামানের স্ত্রীর বড় ভাই শেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার নুরুল ইসলাম হিরুসহ জেলার মুক্তিযোদ্ধারা।
আলবদর কমান্ডারের দাফন যাতে এখানে না হয় এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শেরপুরবাসী।
তবে প্রশাসন বলছে ফাঁসির পর তার মৃতদেহ দাফন করা নিয়ে কোনো নির্দেশ এখনো তাদের দেয়া হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, নারী নির্যাতন, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগসহ অসংখ্য অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন তিনি।
শেরপুর সদরের নয়আনী বাজারের সুরেন্দ্র মোহনের বাড়ি, শহরের উপকণ্ঠের সেরি ব্রিজ, সূর্যদী, আহম্মদনগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা কামারুজ্জামানের মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষী হয়ে আছে। তারই নির্দেশনায় নালিতাবাড়ির সোহাগপুরের এ বধ্যভূমিতে একসঙ্গে ১০০ ২০জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের ফাঁসির পর তার মৃতদেহও শেরপুরে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষ। এ ঘটনায়, গত মঙ্গলবার সকালে শেরপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেয় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
তবে, তারা কামারুজ্জামানের দণ্ড কার্যকরকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ শেরপুরের সর্বস্তরের মানুষ। তারা মনে করেন এ রায়ে শুধু শেরপুর নয়, দেশ ও জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধারা।