মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ইন্টারপোল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আফতাবউজ্জামান এ কথা জানিয়েছেন।
গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার দপ্তরকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারির কথা জানানো হয়। ১০ এপ্রিল এই রেড অ্যালার্ট জারি করে ইন্টারপোল। মানবতাবিরোধী অপরাধী জব্বার যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন বলে রেড অ্যালার্টে জানানো হয়।
গত বছরের ৩ ডিসেম্বর জব্বারের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। তবে বয়স বিবেচনায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছে।
জব্বারকে পলাতক ঘোষণা করে ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট তার বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে ২৪ জন সাক্ষ্য দেন।
আর জব্বারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান।
জব্বারের বিরুদ্ধে গঠন করা ৫টি অভিযোগের সবই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ১,২, ৩ ও ৫ নম্বর অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১। আর ৪ নম্বর অভিযোগে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
পাঁচটি অভিযোগগুলো হলো:
আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে গঠিত প্রথম অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ১৬ মে মঠবাড়িয়া রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার জব্বারের নির্দেশে রাজাকাররা ফুলঝুড়ি গ্রামের আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাস ও মোতালেবের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গুলি করে রাজ্জাককে হত্যা করে।
এতে মোতালেব গুরুতর আহত হন। ওই দিন সন্ধ্যায় রাজাকাররা নাথপাড়া ও কুলুপাড়ার শতাধিক বাড়ি লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে।
দ্বিতীয় অভিযোগ, একাত্তরের ১৭ মে ৩০-৩৫ জন পাকিস্তানি সেনা ও ৪০-৪৫ জন সশস্ত্র রাজাকারকে নিয়ে জব্বার ফুলঝুড়ি গ্রামে হামলা চালান। জব্বারের নির্দেশে রাজাকাররা সারদা কান্তি পাইককে গুলি করে হত্যা করে। পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারা গ্রামের প্রায় ৩৬০টি ঘরবাড়ি লুট করে ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
তৃতীয় অভিযোগ, একাত্তরের ২২ মে জব্বারের নেতৃত্বে রাজাকাররা মঠবাড়িয়ার নলীগ্রামে হামলা চালায়। জব্বার নিজের পিস্তল দিয়ে সুখনাথকে গুলি করে হত্যা করেন, তাঁর নির্দেশে সহযোগীরা ১১ জন হিন্দুধর্মাবলম্বীকে গুলি করে হত্যা করে।
চতুর্থ অভিযোগ, একাত্তরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে ফুলঝুড়ি গ্রামের প্রায় ২০০ হিন্দুকে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করেন জব্বার।
পঞ্চম অভিযোগ, একাত্তরের ৬ ও ৭ অক্টোবর জব্বারের পরিকল্পনায় ও নির্দেশে রাজাকাররা আঙ্গুলকাটা ও মঠবাড়িয়া থেকে ৩৭ জন হিন্দুধর্মাবলম্বীকে অপহরণ করে, যাঁর মধ্যে ২২ জনকে পরে হত্যা করা হয়। বাকি ১৫ জন নির্যাতনের শিকার হন।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধকালে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির সাংসদ ছিলেন।