ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ (শুক্রবার)। একাত্তরের এদিনে বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে শপথ নিয়েছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
সারাবিশ্ব সে দিন জেনেছিলো, একটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের কথা। বাংলাদেশের জন্য বর্হিবিশ্বের সমর্থন আদায়, জনমত গঠন, শরণার্থীদের দেখভাল এবং হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করে এই সরকার। যে পথ ধরে ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়।
২৬ মার্চ, ১৯৭১ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন, বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণায় ততক্ষণে দেশকে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর কবলমুক্ত করতে মরণপণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে জাতি। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে শামিল আপামর বীর জনতা।
যুদ্ধের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বিশ্ববাসীর সামনে মূর্ত হয়ে উঠলো। ১০ এপ্রিল সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিরা গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে বৈধ ভিত্তি দেন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশকে। সেদিনই ঘোষণা আসে বাংলাদেশ সরকার গঠনের। অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে বেছে নেয়া হয় মুক্তাঞ্চল চুয়াডাঙ্গাকে। খবর রটতেই পাকিস্তানিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় চুয়াডাঙ্গা।
এমন প্রতিকূলতার মধ্যেই সামনে আসে আরেক মুক্তাঞ্চল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার নাম। সিদ্ধান্ত হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে ১৭ এপ্রিল সেখানেই হবে স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ।
দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির জনক শেখ মুজিবের নামে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ হলো মুজিবনগর। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সরকারের নেতৃত্বে এলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমেদ। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ নামের নতুন রাষ্ট্রের জন্মলাভের আনুষ্ঠানিকতার খবর পৌঁছে দিতে মুজিবনগরে সেদিন ছুটে এসেছিলেন কয়েকশ সাংবাদিক। শপথ গ্রহণের পর দেয়া হয় গার্ড অব অনার।
মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকারের শপথ অনুষ্ঠান মনোবল বাড়িয়ে দেয় রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের। গতি পায় মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধে যুদ্ধে স্বাধীনতার পূর্ণতা আসে ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় গৌরবে।