পুলিশের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও, বর্ষবরণের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের এখনো সনাক্ত করতে পারেনি তারা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণেই বর্ষবরণ উৎসবে নারীদের ওপর হামলা হয়েছে, উত্ত্যক্তকারীদের ধরা সম্ভব হয়নি, এমন অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দী।
যৌন নিপীড়নের শিকার কেউ থানায় অভিযোগ না করলেও, পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেছে। এরই মধ্যে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক রুলে, ওই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
একুশের বইমেলা ঘিরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দেড় মাস আগে টিএসসি এলাকার যে স্থানে বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, ঠিক এর কাছেই বাংলা বর্ষবরণের দিন যৌন হয়রানির শিকার হন বেশ কয়েকজন নারী। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পুলিশের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের পাশে পুলিশ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের লাঠিপেটার দৃশ্য।
যৌন নিপীড়কদের কবল থেকে নারীদের রক্ষায় ওই সময় এগিয়ে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দী। তার অভিযোগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকাই ওই ঘটনার জন্য দায়ি।
ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌন হয়রানির ওই ঘটনাকে ‘কথিত’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক এ কে সাইদুল হক ভুঁইয়া বলেন, ওই দিন তেমন কিছুই ঘটেনি।
এছাড়া নারীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিদিনই মানববন্ধন করছে ছাত্র সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।
এদিকে, গণমাধ্যমে এ ঘটনার খবর প্রকাশিত হওয়ায়, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক রুল জারি করে যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।