বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী দেশের প্রধান খাত পোশাক শিল্পের জন্য বিপর্যয়কর ও বিভীষিকাময় দিন ২৪ এপ্রিল। ২ বছর আগে এ দিনে সাভারে ৯তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়লে মারা যান পাঁচ গার্মেন্টসের ১১৩৫ জন শ্রমিক। আহত ১ হাজার ১৬৭ জনের মধ্যে অনেকেই সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন।
অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন হয়েছেন ২ শতাধিক শ্রমিক। এতিম কয়েকশ শিশু-কিশোর। ভবনমালিক সোহেল রানা ও কতিপয় গার্মেন্টস মালিকের অদূরদর্শিতার বলি হয় বিশ্বময় সুনাম কুড়ানো রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প।
শুক্রবার ধসে নিহত ও আহত শ্রমিকদের স্মরণে রানা প্লাজার সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ঢাকার জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল মিয়া ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান।
এসময় ভয়াবহ এ ধসে হতাহতদের স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।
রাজধানীর জুরাইনে নিহত শ্রমিকদের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে রানাপ্লাজায় নিহত- আহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম।
সাভারের রানা প্লাজা ধসে হাজারো মৃত্যুর ভয়াবহ বিপর্যয় অসংখ্য মানুষের জীবনকে নিয়ে গিয়েছিল চরম দুরাবস্থায়। সেই দুরাবস্থা এখনো পিঁছু ছাড়ছে না তাদের। আহত হয়ে যারা বেঁচে আছেন তাদের জীবনের চাকা ঘুরছে অবর্ণনীয় দু:খ-কষ্ট আর অনিশ্চয়তায়।
পূর্নবাসন কিংবা পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ তারা এখনো পাননি। এ অবস্থা দূর করতে শ্রম আইনের যথাযথ প্রয়োগের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। আর এখনো যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদেরকে সনাক্ত করে সাহায্যের আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছে গবেষণা সংস্হাগুলো।
এদিকে, পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ'র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে নিহতদের চিহ্নিত করে তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
ভয়াবহ সেই দিনটির দুই বছর হতে চলল। সেই দুর্ঘটনার বিস্মৃতি কেড়ে নিয়েছে ঘুম, জীবন জিজ্ঞাসার স্বপ্ন সর্বপরি কর্মক্ষমতা। কেমন আছেন তারা?
রানা প্লাজার ভয়াবহতার শিকারে নি:স্ব প্রায় নিহত অনেক শ্রমিকের স্বজনরা। আকুতির সুরে অভিযোগ কথা দিয়ে কথা রাখা হয়নি।
গত দুই বছরে এই দুরাবস্থার কোনো গুনগত পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে শ্রমআইনের যথাযথ প্রয়োগের প্রতি তাগিদ দিলেন শ্রমিকনেতারা।