দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিটি নির্বাচনে প্রতিশোধ নেয়ার কথা বলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাবমূর্তি নষ্ট করার কারণে যদি জনগণ প্রতিশোধ নেয় তাহলে তিনি কোথায় যাবেন সেটাও ভেবে দেখা উচিত বলেও জানান তিনি
রোববার গণভবনে ইন্দোনেশিয়া সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ীর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া মানুষ পুড়িয়ে এখন ভোট চান কোন মুখে? জনগণ তার এ আহ্বানে সাড়া দেবে না।
হরতাল-অবরোধে ঘটিত নাশকতা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দগ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়াননি খালেদা জিয়া, কোনো সহানুভুতি জানান নি তিনি। অবরোধ- হরতাল দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটিয়েছেন তিনি।
হরতাল-অবরোধ ডেকে দেশের মানুষকে ৯২ দিন নরকে রেখেছে খালেদা জিয়া— উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ পুড়িয়ে হত্যার হুকুমদাতাদের এবং অর্থযোগানদাতাদের বিচার করা হবে।
নির্বাচনে পরাজিত হলে সরকারের কিছু যায় আসেনা— উল্লেখ করে এসময় খালেদা জিয়াকে জনগণের বেঈমানের সঙ্গেও তুলনা করেন শেখ হাসিনা।
নীলনকশা করে কিভাবে নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় তা খালেদা জিয়ার থেকে ভাল আর কে জানে? এ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আজকের সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যার ফুলঝুড়ি ছুটিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের ভুয়া বিবৃতি এবং ভারতের বিজেপি প্রধান অমিত শাহের ফোনালাপের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার মিথ্যাচারের কথা কী বলব—দেশের ভেতরে তো মিথ্যাচার করেই যাচ্ছেন, বিদেশিদেরও ছাড় দেননি। মিথ্যা কথা উনি চমৎকারভাবেই বলতে পারেন।’
গণমাধ্যম খালেদার অপকর্ম তুলে ধরে না— মন্তব্য করে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার চালালেও তা গণমাধ্যমে আসেনি বলে সমালোচনাও করেন শেখ হাসিনা।
এ সময় সাংবাদিকের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কে বিশ্বাস করবে?’ সমঝোতার সম্ভাবনার কথা তিনি অসম্ভব বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই নেপালে ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নেপালে ঘটিত ভূমিকম্পে তাদের পাশে থাকবে থাকবো।’
সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সম্মেলনে অংশ গ্রহণের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে নারী ক্ষমতায়নে শিক্ষা প্রযুক্তি জলবায়ু ভূমিকা উল্লেখ করে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানির বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয় চিহ্নিত করে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেই। চীনের রাষ্ট্রপতিকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।