প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন সন্ত্রাসের পথ ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড পরিত্যাগ করে বিএনপিকে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসার পরামর্শ দেবেন।
শুক্রবার বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী এ আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন শুক্রবার বেলা ১টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে ফোন দেন এবং তাদের মধ্যে ১৪ মিনিট কথা হয়।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবকে বলেন, ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি ৩ মাস ধরে দেশব্যাপী জ্বালাও-পোড়াও এবং নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তারা পেট্রোলবোমা ও ককটেল নিক্ষেপ করে ড্রাইভার, হেলপার, নারী ও শিশুসহ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার সরকার জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তাসহ দেশের কষ্টার্জিত গণতন্ত্রকে নির্বিঘ্ন রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কঠোর ভূমিকা পালন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে কোন প্রকার হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যা বাংলাদেশের অতীত ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। তিনি বলেন, এরফলে ৪৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে এবং এ নির্বাচনে দেয়া ভোটের সংখ্যায় তা অস্বাভাবিক নয়। তাই নির্বাচনের নিরপেক্ষতার ব্যাপারে প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যেই ভোটের দিন বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আশা করে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড পরিহার করে বিএনপি গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসী পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস দেশবাসী কখনো মেনে নেবে না। তিনি বলেন, মাত্র ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৩ ঘন্টার মধ্যেই বিএনপি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বর্জন করে। কারণ বিএনপি নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছেন ভোটারদের মনোভাব তাদের পক্ষে নেই।
টেলিফোনে আলাপকালে জাতিসংঘ মহাসচিব গণতন্ত্রকে সুসংহতকরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অব্যাহত ও নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
প্রেস সচিব বলেন, বান কি-মুন সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, গণতন্ত্রে এ ধরনের কর্মকান্ডের কোন স্থান নেই। তিনি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, এমডিজি অর্জনে সাফল্য এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৩ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এতে বিএনপি’র অংশগ্রহণ স্বস্তিদায়ক ছিল। নির্বাচনের দিন মাঝপথে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে আন্তরিকতা প্রকাশের জন্য বান কি-মুনকে ধন্যবাদ জানান। সূত্র বাসস।