বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বিলটি ভারতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়ার পর এটি রাজ্যসভা ও লোকসভায় পাস হলে ভারত-বাংলাদেশের ছিটমহল বিনিময়সহ অমিমাংসিত স্থল সীমান্ত সমস্যার অবসান হবে বলে মনে করছেন ছিটমহলের বাসিন্দারা।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর থেকে ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহলের মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছেন। এরইমধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ও ভারতের সীমানায় রয়েছে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল।
ছিটমহল বিনিময়ে ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা মুজিব চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছে ছিটমহলবাসি।
২০১১ সালে ঢাকায় এ চুক্তির প্রটোকল সাক্ষরিত হওয়ায় আশার আলো জাগে তাদের মধ্যে। কিন্তু ২০১৩ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আপত্তির মুখে এ চুক্তির বিলটিও আলোর মুখ দেখেনি। তবে সম্প্রতি এ চুক্তি নিয়ে নমনীয় হন মমতা ব্যানার্জী।
নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ছিট মহল বিনিময়ের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। তখন নমনীয় হয় মমতা ব্যানার্জী। ৪ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের এক জনসভায় ছিটমহল বাসিদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে ছিটমহল বিনিময়ে তার সম্মতির কথা জানান।
ছিটমহল বিনিময় হলে দুই দেশের প্রায় ৫২ হাজার মানুষের ৬৭ বছরের বন্দি জীবনের অবসান হবে। এরইমধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিট মহলের ৩৭ হাজার ৩৬৯ এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশির সংখ্যা ১৪ হাজার ২১১জন।
চুক্তিটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ পাবে ১১১টি ছিট মহলের ১৭ হাজার ২৫৮ একর জমি এবং ভারত পাবে ৫১টি ছিট মহলের ৭ হাজার ১১০ একর জমি।