বহু প্রতিক্ষিত বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বিল রাজ্যসভায় পাস হওয়ায় আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছেন ছিটমহলবাসীরা। বিলটি এবার লোকসভায় পাস হলে দুই দেশের ছিটমহলের প্রায় ৫২ হাজার মানুষের বন্দি জীবনের অবসান ঘটবে।
বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি ভারতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়ার পর এটি রাজ্যসভায় পাস হওয়ায় আনন্দ ভাসছে ছিটমহলবাসী। চলছে মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ মিছিলসহ নানা আয়োজন।
বৃহস্পতিবার লোকসভায় বিলটি পাস হলেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলের ৩৭ হাজার ৩৬৯জন বাসিন্দা বাংলাদেশের এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের ১৪ হাজার ২১১ জন মানুষ চাইলে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার সুযোগ পাবে।
চুক্তিটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ পাবে ১১১টি ছিট মহলের ১৭ হাজার ২৫৮ একর জমি এবং ভারত পাবে ৫১টি ছিট মহলের ৭ হাজার ১১০ একর জমি।
দীর্ঘ বঞ্চনার পর মৌলিক অধিকার ও একটি দেশের নাগরিক হিসেবে বসবাসের সুযোগ তৈরি হওয়ায় আশার আলো দেখছেন ছিটমহলের বাসিন্দারা। অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখছেন তারা।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সাল থেকে ছিটমহল বিনিময়ে ইন্দিরা মুজিব চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছে ছিটমহলবাসি। ২০১১ সালে ঢাকায় এ চুক্তির প্রটোকল সাক্ষরিত হওয়ায় আশার আলো জাগে তাদের মধ্যে। তবে ২০১৩ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তির মুখে এ বিলটিও আলোর মুখ দেখেনি।
পরে গতবছর নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। গতবছরের ৪ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের এক জনসভায় ছিটমহলবাসীর দুঃখদুর্দশা লাঘবে এ উদ্যোগে সম্মতি জানায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।