বিভক্ত ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন। ঠিক করে নিচ্ছেন, কিভাবে এগুবেন তারা- কী হবে কর্মপরিকল্পনা।
ইতিহাসের পরিক্রমায় ঢাকার প্রশাসন ও সেবা ব্যবস্থায় এসেছে নানা পরিবর্তন। আধুনিক ঢাকার সেবা সংস্থা পৌরসভা থেকে পৌর করপোরেশন এরপর সিটি করপোরেশন। শহরের আয়তন, জনসংখ্যা ও সেবা সংস্থার কর্ম পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ।
ফলে ১৮৬৪ সালে পৌরসভার মাধ্যমে যে সংস্থার যাত্রা শুরু তা ২০১১ সালে বিভক্ত হয় দুই সিটি করপোরেশনে। নগর শাসনের ধরণ বদলানোর পাশাপাশি প্রশাসকের ধরণও বদলেছে। কখনও নির্বাচিত কখনও অনির্বাচিতরা দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায়, মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ের অভাবে নাগরিকরা সেবা পাওয়ার থেকে বঞ্চিতই হয়েছেন বেশি।
এ অবস্থায় নগর সরকারের দাবি দীর্ঘদিনের তবে তার আগে সিটি করপোরেশনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিলেন নগর পরিকল্পনা কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন শক্তিশালী করা ও মেয়রের যোগ্যতা, দক্ষতার ওপরই নির্ভর করবে নগর সরকার গঠন। তবে এক্ষেত্রে ঢাকা সিটি বিভক্ত হওয়ায় নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বুয়েটের নগর ও অঞ্চল বিভাগের অধ্যাপক ড. সারওয়ার জাহান বলেন, রাজধানী ঢাকাকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা দুই সিটি করপোরেশনকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজন মেয়রদের হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা। বিদ্যমান আইনে সমন্বয় করে কাজ করার ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানকেই দুইভাগে ভাগ করতে গেলে তা কঠিন হয়ে যাবে। তাই ভবিষ্যতের নগর সরকার চিন্তায় কাঠামো কী হবে তাও মাথায় রাখা দরকার।
তাই বিকল্প কাঠামোয় ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গী-গাজিপুর সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে একটি সরকার গঠনের প্রস্তাব তাদের। নাগরিক সেবা বাড়াতে মেয়রদের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের কাজের পরিধি বাড়ানোর পরামর্শও দেন তারা।