ছিটমহলবাসীর নিরাপত্তাসহ সকল ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ভারতের পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনের প্রেক্ষাপটে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেএ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
উন্নয়ন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ সরকার সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ ছিটমহলবাসীর জীবনমানের উন্নয়নের জন্য নানা ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াও একইসঙ্গে ছিটমহলবাসীদের কোনো ধরনের অসুবিধা যাতে না হয়, সে পদক্ষেপ নিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, যে সমস্ত এলাকাগুলো আমরা পাব, ওই এলাকায় যে সমস্ত জনগোষ্ঠী আছে তারা এতদিন খুব কষ্টের ভিতর দিয়ে জীবনযাপন করেছে। প্রায় ৬৮ বছর সময় চলে গেছে তাদের জীবনে। এখন তাদের সার্বিক উন্নতি করা আমাদের দায়িত্ব।
চিকিৎসাসেবার জন্য হাসপাতাল করা, স্কুল করে দেয়া, রাস্তা করে দেয়া, তাদের জীবনজীবিকার ব্যবস্থা করা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দেয়া, যারা গৃহহীন তাদের ঘরবাড়ি করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের ভেতর ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে। একইভাবে ভারতের ভেতর থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল হয়ে যাবে ভারতের ভূমিতে।
এ প্রক্রিয়ায় ছিটমহলবাসীরা তাদের জমিতে তাদের ভিটামাটিতে বসবাসের সুযোগ পাবেন। কাউকে স্থানান্তরের প্রয়োজন হবে না। তবে তাদের জাতীয়তা বদলে যাবে। কেউ আগের জাতীয়তা বজায় রাখতে চাইলে তিনি আগের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ভারত যেহেতু এটা পাস করেছে; আমাদের এখন যেটা সব থেকে প্রয়োজন, ওই ছিটমহলবাসী, তাদের যেন কোনোরকম অসুবিধা না হয়, কেউ যেন তাদের ওপর কোনো রকম অত্যাচার করতে না পারে, প্রত্যেকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।
প্রত্যেকের ভালোমন্দ দেখা আমাদের দায়িত্ব। কাজেই যেটা ভারতের পাওয়ার কথা সেটা তারা পেয়ে যাবে, যে বাংলাদেশের পাওয়ার কথা সেটা বাংলাদেশ পেয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ছিটমহলবাসীর নিরাপত্তাসহ তাদের দেখভালের জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা সংস্থা, বর্ডার গার্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদেরও নির্দেশ দেন।
এসময় ভারত-বাংলাদেশের সীমানা বণ্টনের ইতিহাস তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে ছিটমহল সমস্যার সমাধান আরও আগেই হয়ে যেত।
এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপত্বিতে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেন ভুইয়া সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।