এশিয় দেশগুলো ক্রমেই বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে দিচ্ছে—এখন তারা অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপরই নির্ভরশীল। তবে কিছু দেশের মতো বাংলাদেশের অবস্থান এখনও দুর্বল। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা—এমডিজি পরবর্তী উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে শনিবার রাজধানীতে আন্তর্জাতিক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন বিশিষ্টজনেরা।
অবশ্য রেমিটেন্স, বৈদেশিক বাণিজ্য ও রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা গেলে বাংলাদেশও সবল অবস্থানে পৌঁছে যাবে। একইসঙ্গে প্রয়োজন আঞ্চলিক পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট সহযোগিতাপূর্ণ অর্থ ব্যবস্থাপনা।
জাতিসংঘের আবাসিক সমুন্নয়কারী রবার্ট ওয়াটকিনস বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতার জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত বিসিআইএম করিডোর। তবে সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে এবং গঠনমূলকভাবে। সবার আগে নির্ভর করতে হবে নিজেদের সক্ষমতায়।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আলোচকরা সুনির্দিষ্ট কাঠামো-উন্নয়নের কথা তুলে ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল বলেন, ধীরে হলেও বাংলাদেশ নিজ সামর্থ্য দিয়েই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন করবে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের বিদ্যমান ব্যবস্থার কিছু জায়গায় সংস্কারের কথা বলছেন। তা ঠিক আছে, আমরা করব যেহেতু আমার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ধীরে-সুস্থেই করব এবং অবশ্যই নিজেদের সক্ষমতায় নির্ভর করে সেই সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে। তবে বিদেশি বন্ধুরা যদি আমাদের পণ্য ও জনশক্তি আমদানি করে এক্ষেত্রে আমাদের গতি বাড়বে।’
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চলতি বছর থেকে দেশের প্রতিটি নাগরিককে করের আওতায় আনা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
এর আগে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি আয়োজিত দুই দিনের আলোচনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রথমেই এশিয় দেশগুলোর অর্থনীতির চিত্র সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। এ সময় আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা অভ্যন্তরীণ উৎসের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলেন, জোর দেন বিদেশ নির্ভরতা কমানোর ওপর। একইসঙ্গে এসবের বেশকিছু তথ্যপ্রমাণও দেন তারা।