আজ ১৭ মে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭৫ সালের রক্তাক্ত পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালের এ দিনে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক - গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে ত্রিশ বছর ধরে শেখ হাসিনা দলের পাশাপাশি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বও পালন করছেন।
যুদ্ধোত্তর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল সংবিধানের চার মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে। ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড আর ৩ নভেম্বর জেলখানায় ৪ জাতীয় নেতা হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেই সংবিধান রুদ্ধ হয়েছে, চেপে বসেছে সামরিক শাসন।
একসময় রাজনীতি উন্মুক্ত হলেও, যারা রাজনীতি করতেন তাদের কাছে সময়টা ছিল সংকটের। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগেও তখন নানা মত ও নেতৃত্বের মেরুকরণ। পাল্টাপাল্টিতে কাউন্সিল ভেঙে পড়ার উপক্রম।
এমন এক সময় ১৯৮১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মনোনিত করা হয়।
এরপর ১৭ মে, নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ভারত থেকে ফিরে এলেন তিনি। বিমান বন্দরে নেমেই তিনি বলেন ‘আমি ফিরে এসেছি’।
দায়িত্ব বুঝে নেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর। শুরু করেন নতুন এক যাত্রা।
১৯৮১ থেকে ২০০৪। এই ২৫ বছরে তাকে হত্যার করার চেষ্টা করা হয়েছে ১৪ বার। ৭৫ এ দেশে ছিলেন না তাই বেঁচে যান। এরপর ৭৬ কেজি ওজনের বোমা দিয়ে, জনসভায় ব্রাশ ফায়ার করে কিংবা গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা কম করা হয়নি। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি।
এ শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই শুরু হয় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়। এরপর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল তিনবার জয়ী হলে, তিনবারই তিনি প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
রাজনীতিতে শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। জেল খেটেছেন। এসবের মধ্যেই টানা ৩ দশক নেতৃত্বে আছেন দেশের সবচেয়ে বড়ো দলের। ১৯৮১-তে জনতার সামনে যে মূল্যবোধ রক্ষার প্রতিশ্রুতি তিনি দেন, সেই সংগ্রামে তিনি এখনো আছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সাজা কার্যকর তারই অবদান।