ভারত-বাংলাদেশ স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকরে ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত প্রটোকল চুক্তির অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের ছিটমহলে বসবাসকারীদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে নাগরিকদের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেয়া হবে— বৈঠকে শেষে এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা।
ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের যে প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে, তাতে এ কথা বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ছিটমহল যে দেশে অবস্থিত, বসবাসকারী নাগরিকেরা সেই দেশের নাগরিক হওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রাথমিকভাবে ধরে নেয়া হচ্ছে, ছিটমহলটি যে দেশে অবস্থিত, বসবাসকারীরা সেই দেশেরই নাগরিক হতে চাইবেন। তবে, কেউ চাইলে তাদের পূর্ববর্তী দেশের নাগরিক হওয়ারও সুযোগ থাকবে।
সম্প্রতি ভারতের লোকসভায় ১৯৭৪ সালের স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন হয়। ওই বছরের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে চুক্তিটি অনুমোদন হলেও ভারতের লোকসভায় তা অনুমোদন হয়নি।
২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে এ সংক্রান্ত প্রটোকল সই হয়। ভারতের লোকসভায় স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন না হওয়ায় প্রটোকলটি এতদিন কার্যকর হয়নি। সম্প্রতি ভারতের লোকসভায় চুক্তিটি অনুমোদন হওয়ায় সোমবার বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় প্রটোকলটি অনুমোদন হয়েছে।
ছিটমহলে বসবাসরতদের নাগরিকত্বের ব্যাপারে নাগরিক অভিপ্রায় প্রাধান্য পাবে—এ কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলে মোট জমির পরিমাণ ১৭ হাজার ১৬০. ৬৩ একর। জনসংখ্যা ৩৭ হাজার ৩৮৬ জন।
এদিকে, ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের আয়তন সাত হাজার ১১০. ২ একর। জনসংখ্যা ১৪ হাজার ৯০ জন। অর্থাৎ, বাংলাদেশ ছিটমহলের ১০ হাজার ৫০ দশমিক ৬১ একর জমি বেশি পাবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বেশির ভাগ জায়গা চিহ্নিত থাকলেও ৬. ৫ কিলোমিটার এলাকা চিহ্নিত করা ছিল না। পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার ও ফেনীর কিছু এলাকায় এই সীমানা এতদিন চিহ্নিত ছিল না। এ ছাড়া তিন বিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে বলেও জানান সচিব।
দুই দেশের অবৈধ দখলে থাকা জমি প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ভারতের দখলে ছিল বাংলাদেশের ২ হাজার ২৬৭. ৮৮ একর জমি। আর ভারতের জমি বাংলাদেশের দখলে ছিল ২ হাজার ৭৭৭.১৪ একর জমি। অর্থাৎ ৫০৯ .২৬ একর বেশি জমি বাংলাদেশের দখলে ছিল। দুই দেশের অনুমোদন চূড়ান্ত হয়েছে, এখন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের সময় এ বিষয়টির অগ্রগতি হবে ।
এছাড়া বৈঠকে প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ সর্বাধিনায়কতা আইন ২০১৫ এবং প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ সংশোধন আইন ২০১৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইন দুটি ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে।