কবির প্রতিভা ছিল বহুমুখী—সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে কথা বলে মানুষের চেতনাকে জাগ্রত করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–তার অবদান সমাজের সর্বত্র বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার কুমিল্লায় জাতীয় কবির ১১৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
জাতীয় কবি সমাজের প্রেরণা, চেতনা এগিয়ে নেয়ার পথিকৃতি —বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় কবি চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নজরুল-জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সকল অশুভ শক্তির হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, জ্বালাও পোড়াওয়ের রাজনীতি পরিহার করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে কবির সেই চেতনায়।
এর আগে কুমিল্লায় ২৫৫ কোটি টাকা ব্যায়ে ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কুমিল্লার টাউন হল মাঠে আজ থেকে জাতীয়পর্যায়ে তিনদিন ব্যাপী নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় কুমিল্লাকে বিভাগ করারও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে নজরুলের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
কবির প্রতি সন্মান দেখিয়ে তার সৃষ্টি সংগ্রহে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও জানান শেখ হাসিনা।
কুমিল্লাকে আরো উন্নত নগরি হিসেবে গড়ে তুলতে এটিকে বিভাগ করতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
নজরুলের দেখানো পথ অনুসরণ করে বিশ্বে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে জনগণের প্রতি আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ব্যানার ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে পুরো শহরকে। শহরজুড়ে নেয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
২২ বছর পর এবছর দ্বিতীয় বারের মতো জাতীয়পর্যায়ে কুমিল্লায় উদযাপন করা হচ্ছে নজরুলের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী।
এ উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক প্রস্তুতি নেয় জেলা প্রশাসন।
১৯২১ থেকে ১৯২৩ সালের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লায় এসেছিলেন ৫ বার। সময় কাটিয়েছেন একবছরেরও বেশি সময়।
কুমিল্লায় কবির জীবনে এসেছে প্রেম, বিবাহ ও বিচ্ছেদের মতো অধ্যায়। রচনা করেছেন কবিতা, গান ও নাটক। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবাস করতে হয়েছে এই কুমিল্লাতেই। কবির প্রথম বিয়ে হয় কুমিল্লার মুরাদনগরের দৌলতপুরে নার্গিসের সঙ্গে আর দ্বিতীয় বিয়ে হয় কান্দির পাড়ে প্রমিলার সঙ্গে।
এছাড়া, কুমিল্লার ধর্মসাগর পাড়, রাণী দিঘির পাড়, গোমতীর পাড়, সচিন দেব বর্মনের বাড়িতে রয়েছে কবির অসংখ্য স্মৃতি।