শেখ হাসিনাই সেই ব্যক্তি যিনি জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে জাতিকে দিয়েছেন নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব, বিশ্ব দরবারে দেশের অবস্থানকে করেছেন তেজোদীপ্ত। শিক্ষা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ক্রীড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনাই এনেছেন অভূতপূর্ব সাফল্য।
শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় নাগরিক কমিটির আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সাফল্য ও অর্জনগুলো তুলে ধরেন অধ্যাপক মুনতাসির মামুন।
অনুষ্ঠানের মধ্যমণি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই সবাই দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানান তাকে। জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জাতীয় সঙ্গীতের পর শেখ হাসিনার জন্য রচিত ও উৎসর্গীকৃত মর্ম সঙ্গীত উপস্থাপন করা হয় নাচে-গানে।
এরপর বক্তব্য পর্ব, জাতীয় নাগরিক কমিটির সভাপতি সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, তার উদ্বোধনী ও সভাপতির বক্তব্য রাখেন।
কমিটির পক্ষে থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, শেখ হাসিনার প্রতি অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন। পরে সেই অভিনন্দনপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিটি ক্ষেত্রে এসেছে সাফল্য। সেসব কথাই ক্ষেত্রবিশেষে তুলে ধরেন বিশিষ্টজনেরা। দেশের নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব অর্জনের কথা বলেন ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন।
অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
শিক্ষায় অর্জনগুলো তুলে ধরেন শিক্ষাবিদ অনুপন সেন।
নারী-শিশুর উন্নয়ন, যুদ্ধাপরাধের বিচার, বীরাঙ্গনাদের সম্মাননার বিষয়টি তুলে ধরেন শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ও মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফ।
ক্রীড়াক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সাফল্য উঠে আসে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানের বক্তব্যে।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দুপুর থেকেই ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে একের পর এক মিছিল মিলিত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। প্রচণ্ড রোদ পরে বিকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ব্যাপক জনসমাগম হয়।
সবার একটাই কথা- প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাফল্য, জাতিকে এগিয়ে নিচ্ছে সুন্দর আগামীর দিকে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থল দুপুরেই পরণত হয় জনসমুদ্রে। নানা ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে স্রোতের মতো আসে আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলের নেতাকর্মীরদের মিছিল।
শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসেন অগণিত সাধারণ মানুষও। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
নাগরিক কমিটির আয়োজনে এই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতি সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের স্বাগত বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞানপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই ছিল আনন্দ মুখর পরিবেশ। পরিবেশন করা হয় উৎসবের মর্মসঙ্গীত। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে চলে রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত। ছিল নৃত্যানুস্ঠানও।
গরম উপেক্ষা করে দূর-দুরান্ত থেকে নাগরিক কমিটির এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল সংগঠক ও সাধারণ মানুষ।
তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতা, বিশ্ব দরবারে বাঙালি জাতির সম্মানজনক আসন তৈরি করেছে, দেশ ও জাতিকে নিয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক মুক্তির সফলতার শীর্ষে।
হঠাৎ বিকেলের ক্ষণিকের ঝড়ো বৃষ্টিও অনুষ্ঠানে আসা মানুষকে বিচলিত করতে পারেনি। অধীর আগ্রহে, আনন্দমুখর পরিবেশে তারা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত প্রাণবন্ত করে রাখেন।