ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই দিনের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তি, বাণিজ্য ও নৌ প্রটোকলসহ অমীমাংসিত অনেক বিষয় সমাধান হতে যাচ্ছে--জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।
শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
দুই দিনের সফরে কাল-শনিবার বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সকাল ১০টায় বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছাবেন তিনি। তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পুরো রাজধানী, নতুন সাজে সেজেছে ঢাকা। মোদির প্রতিকৃতিসহ ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে রাজধানীর প্রতিটি সড়ক।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুদেশের মধ্যে অমীমাংসিত অনেক বিষয় সমাধানের পথ রচিত হবে মোদির এ সফরে-- গুরুত্ব পাবে কানেকটিভ আর স্বাক্ষর হবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, অভ্যন্তরীণ নৌ প্রটোকল, পণ্যের মান নির্ধারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি।
সমঝোতা স্মারকে সই হবে মানবপাচার প্রতিরোধ, জাল নোট পাচার প্রতিরোধে-- তবে তার এ সফরে আলোচনায় থাকছে না তিস্তা ইস্যু -এ কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আড়ালে আলোচনা চলছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা পৌঁছানোর পর মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এরপর শুরু করবেন অন্যান্য কাজ।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দুদেশের কানেকটিভিটি বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
যেসব চুক্তি হচ্ছে: দ্বি-পাক্ষিক বানিজ্য চুক্তি, অভ্যন্তরিণ নৌ প্রটোকল চুক্তি, উপকূলীয় নৌ চলাচল চুক্তি, পণ্যের মান নির্ধারন সংক্রান্ত সহযোগীতা চুক্তি, সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হচ্ছে: উপকূলীয় অঞ্চল নিরাপত্তার দায়িত্বে বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা, মানবপাচার প্রতিরোধ, জাল নোট পাচার প্রতিরোধ, সমুদ্রভিত্তিক ব্লু-ইকোনমির ক্ষেত্রে সহযোগিতা
কলকাতা-আগরতলা-ঢাকা বাস সার্ভিস, ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস সার্ভিস, খুলনা-মংলা রেলওয়ে লাইন, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল সংযোগ পুর্নবহাল, শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রভবন, সারদা পুলিশ একাডেমিতে একটি মৈত্রি ভবন, ফেনী নদীর ওপর সেতু নির্মান প্রকল্প, বর্ডার হাট উদ্বোধন করবেন নরেন্দ্র মোদি।
এসব উদ্যোগের ফলে আঞ্চলিক আন্তঃ সংযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে বলে মনে করছে সরকার।
এছাড়াও সুধী সমাজে বক্তৃতা, মন্দির, মিশন পরিদর্শন করবেন নরেন্দ্র মোদি।