ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ-শনিবার ২ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশ পৌঁছেছেন।
এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় এক গুচ্ছ চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, প্রটোকল ও সম্মতিপত্র সই হয়েছে।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান মোদি। এরপর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে শীর্ষ বৈঠক করেন মোদি। শীর্ষ বৈঠকের আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস সার্ভিস ও কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন।
এরপর দুই প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী একান্তে কথা বলেন। তাদের আলোচনা শেষে সীমান্ত চুক্তির অনুসমর্থনের দলিল বিনিময় হয়েছে। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন।
আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর বিভিন্ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, প্রটোকল ও সম্মতপত্র সই হয়েছে।
রাতে হোটেল সোনারগাঁওয়ে তার সম্মানে শেখ হাসিনার দেয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন নরেন্দ্র মোদি।
ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় দিনের কার্যসূচি। এরপর তিনি যাবেন রামকৃষ্ণ মিশনে। সেখান থেকে তার পরবর্তী গন্তব্য বারিধারা কূটনৈতিক জোনের দূতাবাস সড়কে ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সেরি। সেখানে তিনি চ্যান্সেরির উদ্বোধন করবেন। দুপুরে তিনি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে বাজপেয়ির পক্ষে নরেন্দ্র মোদি স্বাধীনতা সম্মাননা গ্রহণ করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজ সারবেন মোদি।
কাল-রোববার বিকেলে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় তিনি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে জনবক্তৃতা দেবেন। বক্তৃতা অনুষ্ঠান শেষে সরাসরি বিমানবন্দরে গিয়ে দিল্লির পথে যাত্রা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
যেসব নথি হস্তান্তর:
স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের নথি এবং ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত স্থল সীমান্ত চুক্তি ও এর আওতায় ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত প্রটোকাল বাস্তবায়নের কার্যপদ্ধতি সম্বলিত পত্র হস্তান্তর। আজ যেগুলো স্বাক্ষর হলো:
ভিত্তি ফলক উন্মোচন
খুলনা-মংলা রেললাইন
শিলিগুড়ির রবীন্দ্র ভবন
ফেনী নদীর উপরে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১
কুলাউড়া-শাহজিবাজার রেলপথ
সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ভবন
উদ্বোধন:
বিএসটিআইয়ের আধুনিকায়ন করা ল্যাবরেটরি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ত্রিপুরা সীমান্ত হাট
চুক্তি, প্রটোকল:
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি সই
উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি
অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট প্রটোকল
কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা এবং ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস চলাচলে চুক্তি ও প্রটোকল
সমঝোতা স্মারক:
ভারত-বাংলাদেশের কোস্টগার্ডের সহযোগিতাবিষয়ক
মুদ্রা জালিয়াতি প্রতিরোধ
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সার্কের জন্য ভারতের অনুদান
মানবপাচার রোধবিষয়ক
সাংস্কৃতিক বিনিময়
‘আধা সরকারি সমঝোতা স্মারক’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও নয়াদিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক
যৌথ উদ্যোগে বঙ্গোপসাগরে গবেষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগ এবং কাউন্সেল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ইন্ডিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক
ইন্টারনেটের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ লিজ বিষয়ে বিএসএনএল ও বিএসসিসিএলের মধ্যে এমওইউ
দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নথি বিনিময়:
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ১৯৭২ সালে কলকাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের রেকর্ডের একটি সিডি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন নরেন্দ্র মোদী।
স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সংবিধান সংশোধনের ভারতীয় পার্লামেন্টের অধিবেশনের নথিও হস্তান্তর করবেন তিনি।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষরের একটি আলোকচিত্র নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দেবেন শেখ হাসিনা।
এগুলোর পাশাপাশি দুই দেশের বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই হতে পারে।