জাতীয়

৬৫ দফা যৌথ ঘোষণা

যাত্রা শুরু হলো ঢাকা- দিল্লির

মোদি+হাসিনা
মোদি+হাসিনা

তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টন চুক্তিসহ মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা এবং দুধকুমারের পানিপ্রবাহ সংক্রান্ত সমঝোতা যত দ্রুত সম্ভব করা হবে বলেও অঙ্গীকার করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সফরের শেষ দিনে রোববার প্রকাশিত ৬৫ দফা যৌথ ঘোষণায়ও এসব কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ড. জয়শঙ্কর।

পরে এটি বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের সম্মতি ছাড়া এককভাবে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করবে না ভারত। ঢাকা সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ঘোষণায় নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সামুদ্রিক অর্থনীতি, মানুষে মানুষে যোগাযোগ, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। এ ঘোষণার নাম দেয়া হয় ‘নতুন প্রজন্ম, নয়া দিশা’ বলেও জানান তিনি।

তারা মনে করেন, সার্বভৌমত্ব, সমতা, বন্ধুত্ব, আস্থা ও পরস্পরের জনগণের স্বার্থে এবং এ অঞ্চলের সামগ্রিক কল্যাণের ভিত্তিতে ফলপ্রসূ, পরিপক্ব ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আর এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।

যৌথ ঘোষণায় আরো বলা হয়, আলোচনায় নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং শেখ হাসিনা এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। দু'দেশের সম্মতিতে সুবিধাজনক সময়ে শেখ হাসিনা ভারত সফর করবেন।

বাংলাদেশ ও ভারত আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং জাতিসংঘ ও ডব্লিউটিও-সহ অন্যান্য সংস্থায় এ অঞ্চলের জনগণের কল্যাণে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ড. জয়শঙ্কর।

ঘোষণায় বলা হয়, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে নতুন নতুন ধারণার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য তার অঙ্গীকারের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন।

জয়শঙ্কর বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী তাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠককালে সব ধরনের চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের দ্ব্যর্থহীন ও আপোষহীন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত এবং সন্ত্রাসে লিপ্ত গোষ্ঠী বা ব্যক্তিদের সম্পর্কে পরস্পরের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের জন্য সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, তারা আরো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন যে, তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ড অন্যদের জন্য ক্ষতিকর কোন কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হবে না।

জয়শঙ্কর বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেছেন যে, ভারত ও বাংলাদেশ এ অঞ্চলের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ ও সম্মিলিত সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্বভৌমত্ব, সমতা, বন্ধুত্ব, আস্থা ও সমঝোতার ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত পরিপক্ক ও প্রায়োগিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আরো বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালের ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন কো-অপারেশন ফর ডেভেলপমেন্টের আর্টিকেল-২ উল্লেখ করেন এবং অভিন্ন অববাহিকা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি বিশেষ উপায়ে পানিবন্টনসহ অভিন্ন নদ-নদীগুলোর পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো সমাধানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

মোদি তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন যে, ভারত তাদের নদী সংযোগ প্রকল্পের হিমালয়ের অংশে এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেবে না, যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হতে পারে বলেও জানান জয়শঙ্কর।

এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন যে, ভারতের দিকে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়া হবে না এবং ভারত এ বিষয়ে এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেবে না, যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হতে পারে।

তিনি বলেন, উভয় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা ও সাফল্য লাভের বিষয়ে সন্তোষ এবং সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেন।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, দুই প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি ক্ষেত্রে বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পারমাণবিক জ্বালানি এবং বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে বিশেষ করে কারিগরি ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদানে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুরদর্শী নেতৃত্বের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা এবং এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, উভয় প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ও গৌরব সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতের মাটিতে সমাহিত বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ভারতের সহায়তা কামনা করেছেন।

জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এ প্রসঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সম্মত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতের ব্যাপক অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

দুই প্রধানমন্ত্রী আন্তঃসীমান্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অবৈধ চলাচল, সহিংসতার এবং মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা রোধ করার লক্ষ্যে উন্নত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (সিবিএমপি) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, দুই প্রধানমন্ত্রী উভয় দেশের মধ্যে ইতিহাস, ঐতিহ্য, আশা-আকাক্সক্ষা ও অন্যান্য বহুমুখী সম্পর্কের বন্ধনগুলোর উল্লেখ করেন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদারের লক্ষ্যে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ও অন্যতম বৃহত্তম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ ভারতে গতিশীল ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি মানবিক কারণে বাংলাদেশের ভূখন্ডের ওপারে ত্রিপুরায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য প্রেরণের সুযোগ দেয়ার জন্য শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন।

আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারত সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান। এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঐকমত্য হয়েছে যে, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে।

যৌথ ঘোষণায় (নতুন প্রজন্ম-নাইয়ি দিশা) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দুইদিনের সফরকালে ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সকল কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রতিনিধি দল পর্যায়ে বৈঠক, বাংলাদেশে ও ভারতের কয়েকটি নগরীর মধ্যে বাস সার্ভিস চালু, ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রামকৃষ্ণ পরিদর্শন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং দুটি দেশের মধ্যে বেশকিছু চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগদানের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ সরন ও ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সরকারি মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ