বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে সব ধরনের যান সরাসরি চলাচল সম্পর্কিত যে চুক্তি হতে যাচ্ছে— তাকে নতুন দিগন্তের সিংহদ্বার উন্মোচন হিসেবে অভিহিত করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালী-উর রহমান।
এর মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলোর স্বপ্ন ও ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে বলে জানান তারা।
সার্কভুক্ত দেশগুলোর ইচ্ছা ও স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে এর মাধ্যমে— তবে এক্ষেত্রে চুক্তি বাস্তবায়নে প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর ও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।
অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভিসা সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্ব দেয়া দরকার।
তবে চুক্তি বাস্তবায়নে সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালী-উর রহমান।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভূটানের মধ্যে সব ধরণের পরিবহন সরাসরি চলাচল করবে আগামী বছর থেকে। ১৫ জুন ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে এ বিষয়ে ৪ দেশের মন্ত্রিপর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
বর্তমানে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই— সড়কপথে এ দুই দেশে যেতে হলে- সীমান্ত পার হয়ে প্রথমে ভারত পৌঁছে পরে আলাদা পরিবহনে যেতে হয়।
সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে সড়ক যোগাযোগ হবে অনেকটা ইউরোপীয় আদলে।
১. সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমতি নিতে হবে যানবাহন চলাচলে, ব্যবহার করতে হবে নির্ধারিত রুট।
২. সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নির্ধারিত ‘ফি' দিতে হবে যানবাহন চলাচলে। গন্তব্য দেশ ও মধ্যবর্তী দেশে প্রবেশের সময় ‘ফি’ দিতে হবে।
৩. গন্তব্য দেশে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মাঝপথে যাত্রী বা পণ্য নামানো বা ওঠানো যাবে না।
৪. চলাচলের সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ যানবাহন সার্চ বা পরিদর্শন করতে পারবে।
৫. তিন বছর পরপর বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো চাইলে তারও আগে এ চুক্তি পর্যালোচনা করবে। কেউ চাইলে ৬ মাসের নোটিস দিয়ে চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করতে পারবে। আবার সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশ চুক্তিতে যুক্ত হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মতিতে তা পারবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে সার্ক সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে যাত্রী ও পণ্যবাহী এবং ব্যক্তিগতসহ সব ধরনের পরিবহন সরাসরি চলাচল সম্পর্কিত চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি না থাকায় তা আর হয়নি।