সরকার ২০১৬ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্য রাখলেও ২০২১ সালের আগে তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে, শিশুশ্রমিকের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকা ও মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ের অভাবকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বলছে, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং দারিদ্র দূর না করা পর্যন্ত শিশুশ্রম বন্ধ করা আদতেই সম্ভব নয়।
প্রায় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা, বিশ্রাম ছাড়াই টানা কাজ করে যেতে হয় ১২ বছর বয়সী জাহিদকে। কখনো এর বেশিও কাজ করতে হয় তাকে। এর বিনিময়ে জোটে শুধু তিন বেলা খাবার। পেটের দায়ে দুই বছর ধরে এ কাজ করছে সে।
জাহিদের মতো অনেক শিশুর শৈশবই কাটছে এভাবে। এ জীবন যুদ্ধের কাছে হার না মেনে এর থেকে বেরিয়েও আসতে পেরেছে কেউ কেউ।
তবে গত ১০ বছরে এই সংখ্যা কিছুটা কমলেও শিশুশ্রম বন্ধ করা যায়নি।
২০১৪ সালের সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুশ্রমিক আছে ৪৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে ১৬ লাখ শিশুই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।
এছাড়া, ২৫ লাখ ৬৫ হাজার শিশুশ্রমিক কোন না কোন জায়গায় বিনা বেতনে কাজ করে।
৩৮টি কাজকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োগ বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে মনে করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
আর দারিদ্র্য দূর না করা পর্যন্ত শিশুশ্রম বন্ধ কখনোই সম্ভব নয়, বলছেন তারা। শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় গৃহস্থালীর কাজকেও অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি মানবাধিকার কর্মীদের।
শিশুশ্রমিকদের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকা এবং সমন্বয়ের অভাবেই এ শিশু শ্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইসরাফিল আলম।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের আগে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।
শিশুদের অধিকার রক্ষা করতে শিশুশ্রম বন্ধের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।