মানবপাচার ইস্যুতে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ— আর ব্যর্থতার দায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানবপাচার রোধে করণীয় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তারা।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, মানবপাচার রোধে কৌশলপত্র তৈরি করা হলেও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সুশীল সমাজের কোনো মতামত নেয়া হয়নি।
গবেষক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, অবিবেচনা প্রসূত নীতিমালা বাদ দেয়া এবং সুশাসন নিশ্চিত সম্ভব না হলে মানবপাচার বন্ধ কখনোই সম্ভব নয়।
২০১২ সালে মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশের মধ্যে এক সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়। এরপর মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ১৪ লাখ লোক নিবন্ধন করে। কিন্তু ১৪ লাখের মধ্যে মাত্র সাত হাজার বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পায়। বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় বেড়ে যায় অবৈধ অভিবাসন। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানবপাচার রোধে করণীয় শীর্ষক সুজনের এক গবেষণাপত্রে এসব তথ্য উঠে আসে। মানবপাচার রোধে সরকার সব সময় ব্যর্থ বলে মন্তব্য করা হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বন্দোবস্ত না করা হলে মানবপাচার রোধ করা কখনোই সম্ভব নয়। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
এ সময় বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে হবে—মানবপাচার রোধে অবিলম্বে ট্রাস্ট ফোর্স গঠনের দাবি জানানো হয় সেমিনার থেকে।
সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সুজনের নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজুমদার, গবেষক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্টিনা লুংডেল, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহম্মদ জাহাঙ্গীর প্রমুখ।