সাদা পোশাকে কাউকে আটক না করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীতে ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত ‘পুলিশের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ’ বিষয়ক আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস দমন করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী নিজেরাই যেন সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িয়ে না পড়ে। এ আইন পাসের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানালেও আইনে বেশ কিছু শব্দের সঠিক সংজ্ঞা নেই।
এ সময় ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু আইন-২০১৩’ এর দুর্বলতাগুলো তুলে ধরে তা সংশোধনে বেশ কিছু সুপারিশও উপস্থাপন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।
ড. মিজানুর রহমান বলেন, এখনকার বাস্তব পরিস্থিতি হলো; রাষ্ট্রের মাধ্যমে নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু। এগুলো নিবারণে আইন প্রণয়ন হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিধি প্রণয়ন হয়নি। এ কারণেই আদালত এগুলো আমলে নিতে পারছে না।
তিনি আরো বলেন, সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী যেন কাউকে আটক না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি আটক করতে হয়, আটককারীর পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। আটক করে কোথায় নিয়ে যাবে বলতে হবে। দুই জন স্থানীয় স্বাক্ষী রেখে আটক করবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে ওই ব্যক্তিকে উপস্থিত করতে হবে।
একইসঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু হলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা কমিশনকে জানানো, সাদা পোশাকে কাউকে আটক না করা, আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটককৃতকে আদালতে হাজির করাসহ বেশকিছু সুপারিশও তুলে ধরেন মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস দমন করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেন নিজেই সন্ত্রাসীতে পরিণত না হয়। রাষ্ট্রের দ্বারা যেন কেউ কোনোভাবে নির্যাতনের স্বীকার না হন। রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্তা, মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। মানবাধিকারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে উদার ও মানবিক।
সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন রাউল ওয়ালেনবার্গ ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান রাইটস সুইডেনের প্রফেসর লিয়াল সুঙ্গা, নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের পিএইচডি গবেষক এসএম মাসুম বিল্লাহ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল আলীম, জমাকনের সদস্য মিস আরমা দত্ত প্রমুখ।