উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে সড়ক পথে যোগাযোগ উন্নয়নে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের অর্থনীতিতে সঞ্চার ও পারস্পারিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ চুক্তি বাস্তবায়নে আগামী ৬ মাসের মধ্যে উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে ভূটান সফর শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
এর আগে ১৫ জুন ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে চার দেশের সড়ক পরিবহন মন্ত্রীরা বহু প্রতীক্ষিত মোটরযান চলাচল রূপরেখা চুক্তিতে সই করেন।
চারদেশীয় মোটরযান চলাচল চুক্তিতে রয়েছে: চারদেশেই যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী ট্রাক-লরি ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি চলতে পারবে, চারদেশের মধ্যে চলাচলে রুট পারমিট নিতে হবে, যানবাহনের বৈধ মালিকানা, ফিটনেস ও ইনস্যুরেন্স হালনাগাদ থাকতে হবে, চালকের স্থানীয় কিংবা আন্তজার্তিক যে কোনো ধরনের লাইসেন্স থাকলেই চলবে, যাত্রীর থাকতে হবে বৈধ ভ্রমণ অনুমোদন পত্র, সব ধরনের যান চলাচলের অনুমতি পেতে আলাদা আলাদা ফরম পূরণ করতে হবে, বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত যানের দীর্ঘমেয়াদী অনুমোদন লাগবে, ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে অনুমতি হবে সাময়িক এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ দিতে পারবে।
চুক্তিতে রয়েছে: নিষিদ্ধ কিংবা তালিকাভুক্ত স্পর্শকাতর মালামাল বহন করা যাবেনা, এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার সময় মাঝপথে কোনো যাত্রী এবং মালামাল তোলা যাবেনা।
এছাড়াও যে দেশের ওপর দিয়ে যানবাহন যাবে, সেদেশের কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে যানবাহন পরিদর্শন ও তল্লাশি করতে পারবে। শুল্ক ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনে। ট্রানজিট ও চলাচলের অনুমতি সংক্রান্ত ফি নির্ধারণ হবে আলোচনার মাধ্যমে। আর নিরাপত্তাসহ চুক্তির বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে প্রটোকলে, যা আগামী ৬ মাসের মধ্যে সই হওয়ার কথা। তিন বছর পর পর এই চুক্তি নবায়ন হবে। তবে কোনও দেশ চাইলে ৬ মাসের আগাম নোটিশ দিয়ে চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারবে। সব ঠিকঠাক থাকলে ২০১৬ সালে এই চারদেশে সড়ক পথে যান চলাচল শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগের এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
এই চুক্তার ফলে, শিক্ষা, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে বালাদেশ বেশি লাভবান হবে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দেলওয়ার হোসেন।