টেকনাফের নাফ নদী থেকে অপহরণের তিন দিন পরও বিজিবির নায়েক আবদুর রাজ্জাককে ফেরত দেয়নি মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।
উল্টো তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটকে রাখার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে বিজিপির ফেসবুক পেজে। এ ঘটনাকে অমানবিক উল্লেখ করে কড়া প্রতিবাদ
অপহৃত এ বিজিবি সদস্যের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছে মিয়ানমার। বিনা চিকিৎসায় আহত এ সদস্যকে হাতকড়া পরিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন বলে এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি।
এদিকে, অপহৃত বিজিবি সদস্যকে গতকাল শুক্রবার টেকনাফে বিজিবি ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জার আল জাহিদ জানিয়েছেন, মিয়ানমারে আটক বিজিবি সদস্যকে ফেরত আনার বিষয়ে পতাকা বৈঠকের জন্য বারবার প্রস্তাব পাঠানো হলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এতে সাড়া দেয়নি। পতাকা বৈঠকের চেষ্টার করা হচ্ছে।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এর আগে বৃহস্টপতিবার সকাল ১০টায় টেকনাফ স্থলবন্দর রেস্ট হাউসে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বিজিপির হেফাজতে থাকা নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বৈঠকের ব্যাপারে এ পর্যন্ত সবুজ সংকেত মেলেনি।
মিয়ানমারে আটক বিজিবির নায়েক রাজ্জাকের একটি ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি। তাকে মিয়ানমারের একটি সীমান্ত ক্যাম্পে হাতকড়া পরানো অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছে। ছবিতে দেখা গেছে নায়েক রাজ্জাকের মুখমণ্ডলে রক্তের দাগ। তার সামনে রাখা আছে একটি এম ২২ রাইফেল, গুলি, ৪টি মোবাইল সেট, একটি দা, একটি ছুরি ও দুটি টর্চলাইট।
একটি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে নির্যাতন ও বিনা চিকিৎসায় হাতকড়া পরিয়ে এভাবে আটকে রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি।
প্রসঙ্গত: গত বুধবার সকালে নাফ নদীতে বাংলাদেশের জলসীমায় মৎস্য শিকাররত দুটি নৌকায় তল্লাশি চালায় ওই এলাকায় টহলরত বিজিবির একটি দল। এ সময় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি পূর্বদিক থেকে একটি ট্রলারে এসে বিজিবির টহল দলের নৌকায় বেপরোয়া গুলি চালায়। এতে বিজিবির সিপাহী বিপ্লব কুমার (২১) গুলিবিদ্ধ হন। একপর্যায়ে আহত বিপ্লব কুমারকে নিয়ে বিজিবি দল নিরাপদ অবস্থানে সরে এলেও নায়েক আবদুর রাজ্জাককে অপহরণ করে নিয়ে যায় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।