ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন-২০১৫ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
এর ফলে অপরাধ করে দোষ স্বীকার না করলেও সাক্ষী ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অপরাধীদের শাস্তির দেয়ার বিধান থাকছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভুইয়া
পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনেএ কথা জানান তিনি।
সংশোধিত আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়লেও তা বিচারিক আদালতের ক্ষমতার সমান হবে না-- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্যও প্রয়োগ হবে না এ ক্ষমতা বলে জানান তিনি।
এ সময় প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংশোধিত আইনের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষমতা বাড়লেও তা বিচারবিভাগের সমকক্ষ হবে না আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবহার করা যাবে না।
বিগত ২০০৯ সালে ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন’ হওয়ার পর থেকে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, ইভটিজিং প্রতিরোধ, দুর্নীতিমুক্ত পাবলিক পরীক্ষা, সুষ্ঠু নির্বাচন, জানমাল রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়ে আসছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে পরিচালিত এ আদালত ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মামলা নিষ্পত্তি করেছে। এরইমধ্যে ৯৩টি আইন এ আইনের তফসিলভুক্ত রয়েছে। তবে নিজেদের বিচারিক ক্ষমতা কম থাকায় বহুদিন ধরে তা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
অবশেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সম্পর্কিত আইনের সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
সেক্ষেত্রে:
১. বিদ্যমান আইনে অপরাধ করে দোষ স্বীকার না করলে শাস্তি দেয়ার বিধান ছিল না। সংশোধিত আইনে অপরাধ করে দোষ স্বীকার না করলেও সাক্ষী ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অপরাধীদের শাস্তির দেয়ার বিধান থাকছে।
২. সংশোধিত আইনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার অর্থাৎ বায়োমেট্রিকস পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
৩. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে পারবেন।
এছাড়া, পাট আইন ও বাংলাদেশ শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ আইন ২০১৫ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।