বাংলাদেশের কারাগারে ৫০২ জন বিদেশি নাগরিক আটক রয়েছে—স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার তিনি সংসদে সরকারি দলের সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরণের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আটককৃত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে মিইয়ানমারের সর্বাধিক ২৩৭ জনের মধ্যে কয়েদি ৯ জন, বিচারাধীন ২০৮ জন এবং মুক্তিপ্রাপ্ত ২০ জন।
প্রতিমন্ত্রীর বলেন, মিয়ানমারের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের কারাগারে আটক রয়েছেন। ভারতের ২০২ জনের মধ্যে কয়েদি ৪৩ জন, বিচারাধীন ১০৩ জন এবং মুক্তিপ্রাপ্ত ৫৬ জন।
এছাড়া পাকিস্তানের ৪৩ জনের মধ্যে কয়েদি ৮ জন, বিচারাধীন ৩৩ জন এবং মুক্তিপ্রাপ্ত ২ জন। নেপালের ২ জনই মুক্তিপ্রাপ্ত। তানজানিয়ার ৩ জনের মধ্যে কয়েদি ২ জন, বিচারাধীন ১ জন। নাইজেরিয়ার ১০ জনই বিচারাধীন এবং মালয়েশিয়ার ১ জন বিচারাধীন, ক্যামেরুনের ২ জন বিচারাধীন, পেরুর ১ জন বিচারাধীন, ও আলজেরিয়ার ১ জন বিচারাধীন।
সরকারি দলের সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের নামে ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। শনাক্তপূর্বক তাকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়।
রেড অ্যালার্ট নোটিশটি ইন্টারপোল সদর দপ্তরসহ এর সদস্যভুক্ত সব দেশে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মো. সেলিমের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের আইন-শৃংখলা রক্ষা এবং জনগণের সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা বিধানে নিরলসভাবে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইন-শৃংখলা রক্ষা ও জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানে সরকার পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার পুলিশের জনবল বৃদ্ধি ও বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠন করেছে।
আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ২০০৯-১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বিভিন্ন পদমর্যাদার জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে আরো ৫০ হাজার জনবল বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন ইউনিট যেমন-ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ রংপুর রেঞ্জ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ২ স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং র্যা বের ২টি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এছাড়া, কার্যকরভাবে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পুলিশের একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট, রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট গঠন এবং এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, পুলিশের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিসহ জনশৃংখলা নিরাপত্তা সামগ্রীর মান প্রমিতকরণ, অস্ত্র-গোলাবারুদ, যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির মান আধুনিক ও যুগোপযোগী করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, শিল্প এলাকা, নৌ-পথ ও পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে যথাক্রমে শিল্প পুলিশ নৌ পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ অত্যন্ত সাফল্যের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের সেবার মান আরো উন্নত করার লক্ষ্যে সকল পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের দেশে ও বিদেশে আধুনিক/যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকল প্রকার অপরাধী তথা-জঙ্গি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্যসহ সকল ধরনের অবৈধ মালামাল/দ্রব্য উদ্ধারকল্পে অব্যাহতভাবে পুলিশের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত ও গুরুতর আহত পুলিশ সদস্যদের অনুকূলে এককালীন থোক অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, এছাড়া, কর্তব্যরত অবস্থায় গুরুতর আহত পুলিশ সদস্যদের দেশে ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সূত্র বাসস।