মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন বিশিষ্টজনেরা। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সমালোচনাও করেন তারা।
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আলোচনা সভার আয়োজন করে।
এ সময় জাহানারা ইমাম স্মরণে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে বক্তব্য রাখেন ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সনজিদা খাতুন। পরে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য ছায়ানটকে এবং সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনে অবদানের জন্য অধ্যাপক অজয় রায় ও মুক্তমনা ব্লগকে সম্মাননা দেয়া হয়।
পরে আলোচনা পর্বে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ও জঙ্গি দমনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বক্তারা।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, ‘ওয়াশিকুর রহমান, অন্তত বিজয় সরকার ও অভিজিত রায়ের দুই জন হত্যাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, অথচ এখনো তাদের গ্রেপ্কতার করা হচ্ছে না। সেটা কী ইচ্ছাকৃতভাবে না-কি?’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের এক মাত্র শান্তি হচ্ছে ফাঁসি। আপিল করার সুযোগ দেয়া হয়েছে, অপিলের পর আবার রিভিউ য়ের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও রাষ্ট্রপতির কাছেও ক্ষমা দেয়ারও সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতো উদার হবার কী দরকার ছিলো আমাদের?’
তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আপোসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তা সমুন্নত রাখতে করণীয় সম্পর্কে মতামত দেন তারা।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘যতো দিন এ সরকারের নেতৃত্ব যুদ্ধাপরাধীতদের বিচার সম্পন্ন হবে এবং মুক্তিযুদের চেতনার সে সংবিধান সেটা আমরা ফিরে পাবো। যার মাধ্যে জামাত ও মৌলবাদীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে।’
ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘দেশ যদি প্রগতশীল আন্দোলন না থাকে বা প্রগতশীলের পক্ষে সরকারের অবস্থান পরিস্কার না হয় তাহলে জিডিপি বৃদ্ধিতে কিছু হবে না।’
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পক্রিয়ার মধ্যে যেগুলো বাকি রয়েছে সেগুলো যেন বাংলার মাটিতে অতিদ্রুত সম্পন্ন করা হয়।’
এ সময় ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা ও পালনে যথার্থ পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আবারো আহবান জানানো হয় অনুষ্ঠানে।