টানা কয়েকদিনের বর্ষণে বিপর্যস্ত রাজধানীসহ সারাদেশের জনজীবন। বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টি বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী।
শনিবার সকালের তুমুল বৃষ্টিতে জলজট আর যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।
কয়েকদিন থেকেই থেমে থেমে বর্ষণে শান্তিনগর, মালিবাগ, রামপুরা, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে মিশেছে সোয়ারেজের পানি ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থা শান্তিনগর এলাকায়। একদিকে ফ্লাইওভারের কাজে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ আর তার সঙ্গে যোগ হওয়া জলাবদ্ধতায় প্রায়ই বিপাকের সম্মুখীন হচ্ছেন এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মানুষজন।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া এলাকা। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। থেমে থেমে হালকা ও ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
সাগরে নিম্নচাপের কারণে গত কয়েক দিনে সারাদেশে বৃষ্টি অব্যহত রয়েছে।
চাঁদপুরের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৮৮ মিলিমিটার। শহরের ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান প্রধান সড়কসহ বাসা-বাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
শনিবার বৃষ্টপাত কম হলেও পাহাড়ি ঢলের করণে নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া সীমান্তে শঙ্খ নদীর আশপাশের প্রায় সব গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে নতুন করে পানিবন্দি হয়েছে ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
কুড়িগ্রামে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, রাজিবপুরের প্লাবিত হওয়া নিম্নাঞ্চলের পানি নামতে শুরু করেছে। কাঁচা সড়ক তলিয়ে থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, বান্দারবান, কক্সবাজার, ফরিদপুর ও টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।