ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গমের নমুনা পরীক্ষা করে পচা কিংবা মানুষের খাওয়ার অনুপোযোগি কোনো গম পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
একই সঙ্গে ওই গম পচা বলে সেসব সংস্থা বা ব্যক্তি প্রশ্ন তুলেছেন তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে, তা পরীক্ষা করে দেখার আহবান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলের বক্তব্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদেরও সমালোচনা করেন তিনি।
সরকারি হিসেবে প্রতি মাসে দেশে প্রায় দেড় লাখ টন গমের চাহিদা রয়েছে। এর বড় অংশই রাশিয়া, রোমানিয়া, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। সরকারি পদ্ধতিতে গম আমদানিতে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় চলতি বছরের শুরুতে গমের মজুদ ৬৭ হাজার টনে নেমে আসে। এ পরিস্থিতিতে বারোটি দরপত্রের মাধ্যমে বেসরকারিভাবে গম আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়। বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবার ব্রাজিল থেকে ২ লাখ টন গম আমদানি করে, যার মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।
নিয়ম অনুযায়ী গমের গ্রহণযোগ্যতার পরিমাপক হিসেবে, প্রোটিন, নষ্ট দানার পরিমান, নির্দিষ্ট ওজন, ছোট-বড় দানার পরিমান, অন্য জাতের গমের উপস্থিতির পরিমান, আদ্রতার পরিমানসহ মোট ১০ ধরনের পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন মহলের প্রশ্নের মুখে এরই মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষনা পরিষদ থেকে দুইবার পরীক্ষা করা হয়েছে।
কামরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী আমদানি করা গম খাবার উপযোগী এবং মানসম্মত।
গম আমদানি নিয়ে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে— অভিযোগ করে খাদ্যমন্ত্রী এ নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি কিংবা জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টি না করার অনুরোধ জানান।
এ সময় ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম দেখতে ভাল না হওয়ায়, ওই দেশ থেকে আর গম আমদানি করা হবে না বলেও জানান তিনি।