চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বাংলাদেশে প্রথম টানেল নির্মাণের চুক্তি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় এ বিষয়ে চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও চীনের পক্ষে চায়না কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান লিউ ছিতাও চুক্তি সই করেন।
পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ফলে দেশে এক নতুন মাত্রার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হতে চলল— ৩.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ২ লেনের এ ট্যানেল নির্মাণে ব্যয় হবে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে টানেলের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ৪ বছরের মাথায় শেষ হবে বলে আশা করছে সরকার বলে জানান তিনি।
এরইমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই, ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে-কারিগরি দিক দেখার জন্য পরামর্শক ও আইনী দিক দেখার জন্য আইনজীবীও নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে টানেলের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ৪ বছরের মাথায় শেষ হবে বলে আশা করছে সরকার।
এরইমধ্যে কর্ণফুলী নদী বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে দুই ভাগে ভাগ করেছে— এক পাশে নগর ও বন্দর, অন্যপাশে ভারি শিল্প এলাকা। নদীর ওপর নির্মিত ৩টি সেতু পরিবহন চলাচলের জন্য যথেষ্ট নয়। এছাড়াও কর্ণফুলী নদীতে পলি জমার সমস্যার কারণে এর ওপর আর সেতু নির্মাণ করা বিপদজনক তাই নদীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।
চট্টগ্রাম শহরে আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগস্থাপন, চট্টগ্রাম বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজ ত্বরানিত করা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে নতুন সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
টানেলের প্রবেশপথ হবে নদীর পূর্বপাশে নেভি কলেজের কাছে আর শেষ হবে নদীর পশ্চিমপাশে সার কারখানার কাছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সহযোগিতায় ৩.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ২ লেনের এ ট্যানেল নির্মাণে ব্যয় হবে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।