বরাবরের মতো এবারও ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ বাস সার্ভিসের পাশাপাশি থাকছে বিশেষ ট্রেন ও লঞ্চ সার্ভিস। ঘরে ফেরা মানুষের ঈদের যাত্রা নিরাপদ করতে সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ঈদ এলেই রাজধানী ঢাকা থেকে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বরাবরের মত ‘তিল ঠাঁই আর নাইরে’ অবস্থা। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে উদযাপনের এ যাতনাও তারা মেনে নেয়, বরাবরই পরিবহন খাতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয়।
তবে এবার সড়ক, নৌ এবং রেলপথেও মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, রেলখাতকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, পার্বতীপুর, খুলনা অঞ্চলে ঈদের ৩দিন আগে থেকে বিশেষ ট্রেন চলবে। এছাড়াও শোলাকিয়া-১ ও ২ চলবে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে।
তিনি আরো বলেন, ঈদে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি বন্ধ, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
এদিকে, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এবার বর্ষা ও বন্যায় দেশের প্রায় ২০০ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলোর মেরামতের কাজ চলছে। যাত্রীদের চলাচলে এবার ঈদে বিআরটিসির ৫০০ বাস বিশেষ সেবা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, বৃষ্টি-বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক মেরামতের কাজ চলছে। ঈদে যাত্রীদের ঘরেফেরা নির্বিঘ্ন করতে বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস থাকবে।
এছাড়াও এবার ঈদে লঞ্চের টিকিট নিয়ে শুরুতে কিছুটা অব্যবস্থপনা দেখা গেলেও এখন স্বাভাবিক রয়েছে। বরাবরের মতো এবারও বেসরকারিভাবে লঞ্চগুলো দিনে একের বেশি ট্রিপ দেবে। আর সরকারিভাবে মোট ৭টি জাহাজ বিশেষ সেবা দেবে।
বিশেষ সার্ভিসে এবার যোগ হবে জাহাজ এমভি মধুমতি। মঙ্গলবার এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাহাজগুলো দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে যাত্রি পরিবহন করবে।
পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ এবং দুর্ভোগমুক্ত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।