ঢাকা ওয়াসার একাংশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে— একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা ও দালালদের মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, নিয়ম বর্হিভূতভাবে নিয়োগ দেয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আর্থিক দুর্নীতিতেও জড়িয়ে রয়েছেন বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
রোববার সকালে টিআইবির ধানমণ্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সম্মেলনে পানি ব্যবস্থাপনায় থাকা ঢাকা ওয়াসা এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্বচ্ছতা ও প্রকল্প সংস্কারের সুপারিশ করেন তিনি।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত ১০ মাস গ্রাম ও শহরে চালানো গবেষণায় ওয়াসা কর্মকর্তাদের নানা অনিয়মের পাশাপাশি অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছে বলে জানান ইফতেখারুজ্জামান।
এছাড়া একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ, জলাবদ্ধতা দূর করতে যেসব প্রকল্প নেয়া হয় সেখানেও ব্যাপক দুর্নীতি হয় বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।
এ সময় ঢাকা ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসা, আইনের প্রয়োগ এবং প্রকল্পগুলোকে শুদ্ধাচারের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্লানিং কমিশনের ডিপিপি পুনঃ নিরিক্ষা ও সংস্কারের সুপারিশ করে টিআইবি।
সিটি করপোরেশন ও উপকূলীয় অঞ্চলের পানি খাতে সুশাসন ও শুদ্ধাচার কর্ম-পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করতে ২টি বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক এবং ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্কের সহায়তায় একটি গবেষণা পরিচালনা করে টিআইবি।
তাদের গবেষণায় পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াসার কর্মকর্তাদের একাংশ জমি দখল, নিয়োগ বাণিজ্য, পানি সরবরাহে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং দালালদের ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।