তিন মাসের বকেয়া বেতন, ঈদের বোনাস ও কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সোয়ান গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচিতে দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে শ্রমিকরা ঈদের আগে তাদের দাবি মানা না হলে বড় ধরনের আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম টেলিফোনে দেশ টিভিকে জানিয়েছে, কিছু আইনি জটিলতায় বিষয়টি সুরাহা করতে দেরি হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে শত শত শ্রমিক।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ঈদের আগে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, বোনাসসহ অন্য দাবি আদায়ে সহযোগিতা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, না হয় এ কারখানার প্রায় এক হাজার ৩শ শ্রমিককে নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে ঈদ উদযাপন করা হবে।
ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের টাকা পেতে চার মাস ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সোয়ান গার্মেন্টসের কয়েকশো শ্রমিক। লোকসান দেখিয়ে বিনা নোটিশে গত এপ্রিলে কারখানা বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে কখনও বিজিএমইএ, কখনও শ্রম মন্ত্রণালয়, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্নও হয়েছেন তারা। কারো কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে শনিবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন শ্রমিকরা।
রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কারখানার ঊচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের যোগ-সাজশে কারখানা বন্ধ এবং মালিক আত্মহত্যা করায় তেরশো শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ হয়েছেন ঋণগ্রস্ত।
বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস পরিশোধ আর কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা ঈদের আগে তাদের দাবি মানা না হলে বড় ধরনের কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় চীনের মালিকানাধীন সোয়ান গ্রুপ লিমিটেডের মালিক টুবি হং কোনও নোটিশ এবং শ্রমিকদের বেতন না দিয়েই কারখানা বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা নানা আন্দোলন কর্মসূচি করে আসছেন।