ঈদের ছুটি শুরু তাই শেষ মুহূর্তে রাজধানী ছেড়ে যেতে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ভোর থেকেই বাড়ির পথে যাত্রা শুরু। তবে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার কোনো রকম বিড়ম্বনা ছাড়াই ট্রেনযোগে ঢাকা ছাড়তে পারছেন যাত্রীরা, যদিও কিছু কিছু ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসতে দেরি হওয়াতে ছাড়ছেও দেরিতে।
টিকেট প্রত্যাশীদের এ লাইন সকাল ১০টার একটু আগের। ভোরবেলা লাইন আরো বড় ছিল। আগাম টিকেট না পাওয়া ও নানা ব্যস্ততার কারণে ঈদের ঠিক আগের দিনই টিকেট কেটে বাড়ি ফেরার তাগিদ। কেউ কেউ ঝামেলায় না গিয়ে স্ট্যান্ডিং টিকেট কাটছেন।
এরপর প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা। কেউ ট্রেন আসার, আবার কেউ ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষায়। শিডিউল এদিক ওদিক দু'একটা ট্রেনের।
ট্রেন আসা মাত্রই পড়ি-মরি করে ওঠা। সিট না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদেও উঠছেন কেউ কেউ। তাই একটু চেষ্টা করেই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীরও সদস্যরাও। হোক না শেষ মুহূর্তে, প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাওয়া দিয়ে কথা।
সব ঝক্কি সামলে ট্রেন ছাড়া মাত্রই সব কষ্ট যেন উধাও! বাড়ি ফেরার আনন্দে বিভোর সবাই।
এদিকে, ঈদে ঘরমুখো মানুষ বাসযাত্রায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও টিকেট পাচ্ছেন না আশ-পাশের জেলার যাত্রীরাও। দূরপাল্লার কোনো বাসই সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করতে পারছেনা।
রাজধানীর বাস কাউন্টারগুলো থেকে বলা হচ্ছে, মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো ফিরতে পারছে না গাড়ি। অবশ্য ঘরমুখো মানুষের সকল ভোগান্তিই বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দে।
বৃহস্পতিবার থেকে সকল পোশাক কারখানা ও অফিস ছুটি হয়ে যাওয়ায় রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো উপচে পড়ছে ঘরমুখো মানুষের ভীড়ে। শেষমুহূর্তে যে যেমনভাবে পারছেন রওনা হচ্ছেন বাড়ির পথে। এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে উঠতেও দ্বিধা করছেনা অনেকেই।
তবে ঢাকা থেকে কম দূরত্বের রুটে অগ্রীম টিকিটের ব্যবস্থা না থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থেকে টিকিট কাটতে পারলেও বাস পাচ্ছেন না যাত্রীরা। ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে মাঝে মাঝেই উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা ঘরমুখো মানুষগুলো। কাউন্টার থেকে বিলম্বের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে মহাসড়কে যানজট।
সকাল থেকে রাজধানীর সব বাস টার্মিনাল থেকে একের পর এক দূরপাল্লার বাস ছেড়ে গেলেও কোন বাসেরই সময়সূচি ঠিক নেই। প্রায় সব বাসই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা দেরিতে ছাড়ছে। এসব ভোগান্তি মেনে নিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন সবাই। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দটাই এখন সকলের চোখমুখে।
এদিকে, লঞ্চে বাড়ি ফিরতে রাজধানীর সদর ঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ ছিল গতকালের চেয়ে বেশি। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ঘাটে এসে জড়ো হলেও লঞ্চ ছাড়ার জন্য অনেককে অপেক্ষা করতে হয়েছে দুপুর পর্যন্ত।
ঈদের সময় নির্দিষ্ট কোনো শিডিউল না মেনে, ভর্তি হলেই লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঘাট কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে ঈদের ছুটি বাতিল করে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সব মিলিয়ে শুক্রবার ১৩০ টিরও বেশি লঞ্চ দক্ষিণবঙ্গের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা।
শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চটার্মিনাল এলাকার চিত্র ছিল এরকম। বৃষ্টি, যানবাহনের স্বল্পতা, জীবনের ঝুঁকিসহ সকল দুর্ভোগ ছাপিয়ে ঈদে পরিবার পরিজনের কাছে যাওয়ার এমন তাড়া ঘরমুখো মানুষের।
লঞ্চ ছাড়ার সময় জানেন না অনেকে। তাই বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই ঘাটে জড়ো হচ্ছেন যাত্রীরা।
নানা অভিযোগ থাকলেও ঈদে স্বজনের কাছে যাওয়ার আনন্দ যেন সব দুর্ভোগ ভুলিয়ে দিয়েছে তাদের।
এদিকে, যাত্রীদের নিরাপত্তায় বুড়িগঙ্গা নদীতে টহল দিচ্ছে নৌ পুলিশের ৬টি দল। ঈদের দিন বিকেল পর্যন্তও লঞ্চ চলবে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।