চূড়ান্ত পরিণতি পেতে যাচ্ছে দুই যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। ১৬ জুন মুজাহিদের আপিলের রায় ঘোষণা শেষে এখন অপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের। আর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ২৯ জুলাই।
এরপর শুরু হবে আল বদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী ও চট্টগ্রামের বদর প্রধান মীর কাসেম আলীর আপিলের শুনানি।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ সংঘটন, সহায়তা, চক্রান্ত ও ইন্ধনে নেতৃত্ব দেন আলবদর কমাণ্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। আর চট্টগ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা থেকে নিরিহ মানুষদের ধরে এনে অমানবিক নির্যাতন করার অন্যতম হোতা ছিলেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
মুজাহিদের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশে ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ পাবে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ। আর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার আপিলের রায় ঘোষণা করা হবে ২৯ জুলাই।
২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদের বিরদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে এ বছর ২৯ এপ্রিল মুজাহিদের আপিলের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে ১৬ জুন ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেয় আপিল বিভাগ।
প্রথমবারের মতো বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে জড়িত কোনো যুদ্ধাপরাধী সর্বোচ্চ সাজা পেলেন। আবার ঘাতকবাহিনীতে থেকে পরে মন্ত্রী হতে পারা কারও প্রথম মৃত্যুদণ্ডও এটি।
এর আগে যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের আপিল খারিজ হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ও রায় পুনর্বিবেচনার শুনানি শেষে দণ্ড কার্যকর হতে সময় লেগেছে ৫ মাস। তবে মুজাহিদের মামলার চূড়ান্ত পরিণতি হতে এতো সময় লাগবে না বলে আশা রাষ্ট্রপক্ষের।
২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরির বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৩টি অভিযোগের ৯টিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ৪টি অভিযোগে। সেগুলো হলো:
১. কুন্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যা,
২. সুলতানপুরের নেপাল চন্দ্র ও আরও তিনজনকে হত্যা,
৩. উণসত্তরপাড়ায় ৭০ জনকে হত্যা,
৪. চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোজাফফর হোসেন ও তার ছেলে শেখ আলমগীরকে নির্যাতন ও হত্যা।
এ রায়ের বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আপিল করলে ১৬ জুন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের নথিপত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় আপিল শুনানি। ১৩ কার্যদিবসে দুইপক্ষের শুনানি শেষে ২৯ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করে আপিল বিভাগ।
এরপর শুরু হবে আল বদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী ও চট্টগ্রামের বদর প্রধান মীর কাসেম আলীর আপিলের শুনানি।