উদ্ধত আচরণ ও অশালীন কথার জন্য বরাবরই আলোচিত নিন্দিত সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আসামীর কাঠগড়ায় দাড়িয়েও নিজের বাঁকা স্বভাবের পরিচয় দিয়েছেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মানবতাবিরোধী এ অপরাধী বিচারিক কার্যক্রমের সময় উদ্ধত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে বাধাসৃষ্টি করেছেন বারবার।
কাঠগড়ায় দাড়িয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনকর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন। এমনকি ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিনও বিচারককের সঙ্গে উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, প্রসিকিউটরদের হুমকি, বিচারকাজ, সাক্ষী ও চলমান রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করাসহ এজলাসে বহু বিতর্ক সৃষ্টি করেন কুখ্যাত সাকা চৌধুরী।
বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম দিকে ২০১১ সালে ট্রাইব্যুনালের বিচারককে হুমকি দিয়ে সাকা চৌধুরী বলেছিলেন, চোখ রাঙাবেন না।
আবার ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে আইন শেখাতে আসবেন না বলে ধমক দেন বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য। আর অ্যাটর্নি জেনারেলকে এজলাস কক্ষে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন তাকে দুই বছর জেলে রাখা হয়েছে বের হলে তিনি দেখে নিবেন। সেই সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন।
২০১৩ সালের ১৭ জুন নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার আগে আইন অনুযায়ী শপথ নিতেও অস্বীকার করেন তিনি।
এ সময় ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তাকে ফাঁসিতো দেয়া হবেই তাই তিনি কিছুই পরোয়া করেন না। বিভিন্ন সময় প্রসিকিউটরদের হেয় করে কথা বলেছেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটদের একদিন ফাঁসিতে ঝুলতে হতে পারে বলে পরোক্ষ হুমকি দিয়েছেন।
৯ দিনের সাফাই সাক্ষের পুরোটাই ইংরেজিতে দেন সাকা চৌধুরী। এর স্বপক্ষে নিজেকে বাঙালি নয় চাটগাঁইয়া বলে দাবি করেন তিনি।
বাংলা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেকে তিনি বাঙালি নয়- উল্লেখ করে তার মাতৃভাষা চাটগাঁইয়া বলে দাবি করেন। তার সাক্ষ্যে তিনি এও বলেন যে , তিনি পছন্দসূত্রে বাংলাদেশি, জন্মগতভাবে নন।
ট্রাইব্যুনালের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বসে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও বাকবাণ ছুঁড়ে এজলাসক্ষের পরিবেশও বেশ কয়েকবার উত্তপ্ত করে তোলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। অনেক সময় চিৎকার চেচামেচি করার কারণে তাকে ছাড়াই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিভিন্ন সময় তার অশালীন আচরণের জন্য সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন, আবার এজলাস কক্ষে হাসির খোরাকও জুগিয়েছেন সাকা চৌধুরী।
কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও। সেনাবাহিনী নিয়েও বাজে মন্তব্য করেছেন।
রাজনীতির মাঠে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার স্বভাবসুলভ গোঁয়ার্তুমির কারণে বরাবরই আলোচিত নাম। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ চুড়ান্ত বিচারের মুখোমুখি হয়েও তার স্বভাবে বিন্দুমান্ত্র পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করছেন ট্রাইব্যুনাল ও আইনজীবীরা।
শুধু সাকা চৌধুরী নন, বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে তার আইনজীবী ও স্বজনেরাও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে কথা বলেছেন, বাজে মন্তব্য করেছেন।