অবশেষে পূর্ণতা পেতে চলেছে ভারত ও বাংলাদেশের মানচিত্র। শেষ হচ্ছে দীর্ঘ ৬৮ বছরের মানবিক সমস্যাও। অবলুপ্তি ঘটছে ছিটমহলের বোঝার। অথচ এর শুরু ১৯৪৭ সালে—ব্রিটিশ আইনজীবী সিরিল রেডক্লিফের কলমের খোঁচায়।
অভিযোগ রয়েছে, কোন ধরণের সুবিবেচনা ছাড়া হুট করে পাকিস্তান ও ভারতের সীমানা নির্ধারণের এই মানচিত্রের থেকেই শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি এই বঞ্চনার।
১৯৪৭ সালে বাংলা ও পাঞ্জাবের সীমারেখা টানার পরিকল্পনা লর্ড মাউন্টবেটন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রিটিশ আইনজীবি সিরিল রেডক্লিফকে প্রধান করে সে বছরই গঠন করা হয় সীমানা নির্ধারণের কমিশন। ১৯৪৭ সালের ৮ জুলাই ভারতে আসেন রেডক্লিফ। মাত্র ৬ সপ্তাহের মাথায় ১৩ আগস্ট তিনি সীমানা নির্ধারণের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন এর তিনদিন পর ১৬ আগস্ট জনসমক্ষে প্রকাশা করা হয় সীমানার মানচিত্র। কোনো রকম সুবিবেচনা ছাড়াই হুট করে এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নেয়া সীমানা র্নিধারণের বিষয়টি যথাযথভাবে হয় নি।
অভিযোগ রয়েছে, কমিশন সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তা আর জমিদার, নবাব, স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও চা বাগানের মালিকেরা নিজেদের স্বার্থে দেশভাগের সীমারেখা র্নিধারণের প্রভাব ফেলেছে। আর উত্তরাধিকার সূত্রেই উপমহাদেশের এ সমস্যা বয়ে বেড়াচ্ছে দুই দেশ।
তবে ভারত-পাকিস্তানের বিভক্তির পর ১৯৫৮ সালে নেহেরু-নুন চুক্তি অনুযায়ী বেরুবাড়ীর উত্তর দিকের অর্ধেক অংশ ভারত এবং দক্ষিণ দিকের অর্ধেক অংশ ও এর সংলগ্ন এলাকা পাবে বাংলাদেশ। কিন্তু দু'দেশের অর্ন্তদ্বন্দের কারণে তা অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়ে।
এরপর বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ছিট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী বেরুবাড়ীর বিনিময়ে বাংলাদেশ দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সঙ্গে মূল ভূখন্ড সংযোগের। নিমিত্তে তিন বিঘা কড়ি ডোর চিরস্থায়ী বন্দেবস্তো হিসেবে পাবে। বাংলাদেশ বেরুবাড়ী দিয়ে দিলেও ভারত তারে বিনিময়ে তাৎক্ষণিকভাবে কড়িডোরটি দিতে পারে নি। কথা ছিল উভয়দেশই নিজ পার্লামেন্টে চুক্তি অনুমোদন করবে। বাংলাদৈশ অনুমোদন করলেও ভারত তা করে নি।
১৯৯০ সালে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট তিন বিঘা কড়িডোরের অনুমতি দেয় ভারত সরকারকে। কিন্তু দুই পক্ষের তালিকায় দেখা দেয় গরমিল। পরে ১৯৯৭ সালে ৯ এপ্রিল চূড়ান্ত হয়।