জাতিসংঘ ১৯৯৪ সালে ৯ আগস্টকে বিশ্ব আদিবাসি দিবস ঘোষণা করলেও দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয় না এ দিনটি। ভালো নেই পাহাড় ও সমতলেরে ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর মানুষেরা। ভূমি দখল, বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ ও হত্যা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব আদিবাসী দিবসে ভূমি অধিকার বাস্তবায়নসহ আদিবাসি দিবসকে রাষ্ট্রীয় ভাবে পালনের দাবি জানায়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের।
রোববার দুপুরে রাজধানী আদিবাসী দিবসে শহীদ মিনারে আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা বলেন, পার্বত্য চট্রগামের সমস্যা সমাধান করতে হলে, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
তারা বলেন, বাঙালি বনাম আদিবাসীদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে রাষ্ট্র বনান আদিবাসী। এ সমস্যা সমাধান করতে, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আদিবাসীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একমত পোষলও করে বিশিষ্টজনেরা আরো বলেন, পারাস্পারিক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমতল ও পাহাড়ের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন প্রয়োজন।
অনুষ্ঠান থেকে অনলাইন লেখক নিলাদ্রী নিলয় হত্যার নিন্দাও জানানো হয়। একের পর এক ব্লগার হত্যার জন্য, দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করেন বক্তারা।
এদিকে, মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার ৯৩টি চা বাগান ও ছোটবড় ৭৮টি পানপুঞ্জিতে ৬টি জাতি গোষ্ঠীর প্রায় ১০ লাখ ক্ষুদ্রনৃগোষ্টীর লোকের বসবাস। এ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো হলো খাসিয়া, গারো, মনিপুরি, ত্রিপুরা, টিপরা ও সাওতাল।
সংখ্যালঘু এ জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, লোকাচার, ভাষা ও খাদ্যভ্যাস স্বতন্ত্র। বংশ পরাম্পরায় যুগযুগ ধরে জমিতে বসবাস ও পান চাষ করে এলেও ভূমির উপর তাদের কোনো অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রতিনিয়ত ভূমি দখল, বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ ও নির্যাতন- এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন তারা।
ভালো নেই শেরপুর ও নাটোরের সমতলের ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর মানুষেরা। অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে জীবকা নির্বাহ করা এই মানুষেরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
আন্তর্জাতিক আইন ও দেশের সংবিধানের প্রতি সম্মান রেখে বিশ্ব আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনসহ ক্ষুদ্র নৃগোগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন তারা।