ঢাকা ওয়াসায় দুর্নীতি, জবাবদিহিতার অভাব এবং অব্যবস্থাপনাকে মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে প্রতিবেদন দিয়েছে– তার প্রায় এক মাস পরে তা প্রত্যাখান করেছে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক তাসকিম এ খান।
১২ জুলাই ঢাকা ওয়াসাসহ বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে টিআইবি গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখিত ওয়াসা অংশের বিষয়ে জবাব দিতে সোমবার ওয়াসা ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ওয়াসা।
এ সময় তাসকিম এ খান বলেন, টিআইবির রিপোর্ট বাস্তবতা বিবর্জিত। জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা না থাকলে রাজস্ব আদায় কখনো সম্ভব হতো না। পানি ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ঢাকা ওয়াসা। তবে উৎপাদন ক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও এখনও পর্যন্ত ঢাকাবাসীকে বিশুদ্ধ পানি দিতে অক্ষমতার কথা স্বীকার করেছে।
টিআইবির প্রতিবেদনকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেন ওয়াসার নির্বাহী পরিচালক।
জবাবদিহিতার কোনো অভাব নেই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, স্বচ্ছতার কারণে গত ছয় বছরের চেয়ে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ওয়াসার রাজস্ব আয় ৩ গুণ বেড়েছে।
ঢাকা ওয়াসার নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক দলের নেতা ও দালালদের হাতে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে- তাও অস্বীকার করে তাসকিম এ খান বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা সবসময় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ছিল।
এদিকে, টিআইবির প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত থাকলেও তাদেরকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে দেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসার ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।
এতে বলা হয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাঁজসে ঢাকা ওয়াসা নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক দলের নেতা ও দালালরা। দুর্নীতি ও অনিয়ম ধরা পড়ার পরেও তাদের শাস্তি না হওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ।
এছাড়া, পানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে দালালদের সহযোগিতা করতে কর্মকর্তাদের মধ্যেই সিন্ডিকেট বিরাজ করায়, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই ৯৭ লাখ মানুষ নিরাপদ পানি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।