বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া ২/১ দিনের মধ্যেই চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন। কারণ হিসেবে চিকিৎসার কথা বলা হলেও সেখানে অবস্থানরত তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে।
বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এবং দল পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন কারণে এ ব্যক্তিগত সফরটি রাজনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সফরকালে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা থাকবে বলেও ধারনা করা হচ্ছে।
১৫ আগষ্ট জন্মদিন পালনের বিতর্ক এড়ানোর কৌশল হিসেবে সফরের জন্য এ সময়টিকে বেছে নেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবশেষ গত বছর ১৯ জুলাই ওমরাহ্ পালন করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এরপর এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন, দলের অনেক নেতার কারাগারে যাওয়া-অনেকের আত্মগোপন, দলের নাজুক পরিস্থিতি সব মিলিয়ে আর দেশের বাইরে যাওয়া হয়ে ওঠেনি তার।
এ বছর রমজান মাসে ওমরাহ্ করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ মুহুর্তে তা স্থগিত করা হয়। এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করছে বিএনপি। এর আগে দল সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দলের জাতীয় কাউন্সিল এবং পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সারতে চাইছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
একে টার্গেট করে প্রভাবশালী বিভিন্ন দেশ সফর করে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে চাইছে বিএনপি। যুক্তরাজ্যের পর ভারতে যাওয়ার কথা রয়েছে। তসার্বিক দিক বিবেচনায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়েছে দলের ২য় শীর্ষ নেতা সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা। যিনি ২০০৮ সাল থেকেই লন্ডনে অবস্থান করছেন।
চিকিৎসা গ্রহণ এবং বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রস্তুতি সেরেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।
২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর এটি যুক্তরাজ্যে খালেদা জিয়ার ২য় সফর। এর আগে ২০১১ সালে সবশেষ তিনি যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। দলের পক্ষ থেকেও বিএনপি চেয়ারপারসনের লন্ডন যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত এ সফর চিকিৎসার জন্য হলেও যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ও আলোচনা হতে পারে।
গত বছর ওমরাহ্ পালন করার সময়ই তারেক রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সবশেষ দেখা হয়েছিল।