অন্যের অনুভূতিতে যেন আঘাত না লাগে সে ব্যাপারে সচেতন থেকে স্বাধীনভাবে যার যার ধর্ম পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে রাজধানীতে তথ্য ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক দমনে সচেতনতা বাড়াতে বেশি বেশি সংবাদ প্রচারে গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানান শেখ হাসিনা।
এ সময় সরকারের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত ও জনগণের কাছে সরকারের সেবা পৌঁছে দিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে, ভুল এবং মানুষ ও সমাজের ক্ষতি করে এমন তথ্য যাতে কেউ না ছড়াতে পারে সেদিকে সজাগ থাকতে কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেন তিনি।
তথ্যের অবাধ প্রবাহে তার নেতৃত্বের সরকারই প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে অনুমোদন দেয় উল্লেখ করে, এখন সেসব টেলিভিশন চ্যানেলই সরকারের সমালোচনা করে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় গণতন্ত্র রক্ষা নিয়ে নাগরিক সমাজের নানা বক্তব্যেরও জবাব দেন শেখ হাসিনা।
তথ্য প্রযুক্তি তথ্য পাওয়ার দরজা যেমন উন্মুক্ত করেছে, তেমনি তথ্যকে বিকৃত ও ভূল ভাবে উপস্থাপনেরও সুযোগ করে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কারো ক্ষতি কিংবা অনুভূতিতে আঘাত করে সে বিষয়ে সতর্ক থেকে স্বাধীনভাবে যে যার ধর্ম পালন করবে।
একইসঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজকে সুশৃংখল রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব উল্লেখ করে, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক প্রতিরোধে জনসচেনতামূলক সংবাদ আরো বেশি করে প্রকাশ ও প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং চলচ্চিত্র সেন্সরবোর্ড—এ ৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে নির্মিত হচ্ছে ‘তথ্য ভবন’। সকালে এই ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ষোল তলা তথ্য ভবনের নির্মাণকাজ ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।