যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে আরো তথ্য চেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া, অন্যান্য দেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা বলা হলেও সরকারের কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ৫ জনের।
অপর ৭ জনের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকি ৬ খুনির মধ্যে রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেম উদ্দিন আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। আর নূর চৌধূরী কানাডায় থাকলেও তাদের মৃত্যুদণ্ডবিরোধী অবস্থানের কারণে তাকে ফেরত দিচ্ছে না। অন্য তিন খুনি খন্দকার আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও আব্দুল মাজেদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে খুন করার পর দম্ভ করে বিদেশী গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে হত্যাকাণ্ডের কথা সরাসরি স্বীকার করেছিলেন লে. ক. খন্দকার আব্দুর রশীদ ও সৈয়দ ফারুক রহমান।
এরপর ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ এর মতো কালো আইন জারি করে ২১ বছর রুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ। এরপর চুড়ান্ত বিচারে ১২ খুনির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হলেও তাদের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনের রায় কার্যকর করতে লেগেছে আরো ১৪ বছর।
২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয় ৫ খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মহিউদ্দিন আহমদ, এ কে বজলুল হুদা এবং এ কে এম মহিউদ্দিনের।
বাকি ৭ জনের মধ্যে আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন বলে কথিত আছে। অপর ৬ খুনির মধ্যে রাশেদ চৌধুরীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রিসালদার মোসলেম উদ্দিনও আছেন যুক্তরাষ্ট্রেই। তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েও পাননি। আর, দীর্ঘদিন থেকেই কানাডায় আছেন নুর চৌধূরী। কানাডা মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করেনা বলে তারা নুর চৌধূরীকে বাংলাদেশে ফেরত দিচ্ছে না।
অন্য তিন খুনি খন্দকার আব্দুর রশিদ, মেজর শরিফুল হক ডালিম ও ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ একেক সময় একেক দেশে অবস্থান বদল করেন বলে নানা সময় সরকার খবর পেয়েছে।
পলাতক এসব খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সময়ে চালানো হচ্ছে কূটনৈতিক তৎপরতা, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আইনজীবী, গঠিত হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স। ইন্টারপোলের রেড এলার্টও জারি আছে। সরকারের এতো সব উদ্যোগে কার্যকর কোন ফল পাওয়া যায়নি।
তবে সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাটের কাছে সহযোগিতা চান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে। এ জন্য আরও তথ্য দিতে বলেছে দেশটি। আর, অন্যান্য দেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার তৎপরতায় কঠোর গোপনীয়তার নীতিতে এগোচ্ছে সরকার।