জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সকল আর্ন্তজাতিক চাপ উপেক্ষা করে দেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে চেয়ে ছিলেন। সে জন্য ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে নবগঠিত সংসদে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বিকালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা শীর্ষক এক আয়োজনে এসব কথা উঠে আসে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজন করা হয় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভূমিকা শীর্ষক জন-বক্তৃতা।
এ সময় লেখক মফিদুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। তখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রায় এক লাখ সদস্য আত্মসমর্পন করে। পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেই ১০
জানুয়ারি ১৯৭২ সালে ঢাকায় এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলে ছিলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশে নির্বিচার গণহত্যা চালিয়েছে। তার অনুসন্ধান ও ব্যাপকতা নির্ধারনের জন্য জাতিসংঘের কাছে একটি আর্ন্তজাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের করতে হবে।
তবে তার এ আহ্বানে জাতিসংঘের সাড়া মেলেনি। ১৯৭২ সালে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা প্রস্তুত করে ১৪ ডিসেম্বর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হয় এবং সুনির্দিষ্ট অভিযুক্ত ছাড়া সকল যুদ্ধবন্দি প্রত্যার্পণে তাঁর সরকারের সম্মতির কথা জানান বঙ্গবন্ধু।
আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ধর্ণা দেয়ার পাশাপাশি, ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার দেশের মাটিতে করার বিধান তৈরি করে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক নির্দেশনা দেন। এর জন্য গঠন করেন আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন।
পাকিস্তানই সেদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে, ১৯৫ জন যুদ্ধপরাধীকে পাকিস্তানের কাছে সমর্পণ করতে রাজি হয় বাংলাদেশ। এর ফলে নিশ্চিত হয় জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার। এরপরই সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু।
চার দশক পর বাংলাদেশ আবার গণহত্যাকারীদের বিচার অনুষ্ঠান করে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দির বিচারের দাবি জানানো হয় অনুষ্ঠানে।