২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার শেষ করার ক্ষেত্রে এখন প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ। দুইটি মামলায় ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে অর্ধেকের সাক্ষ্যগ্রহণই শেষ করা সম্ভব হয়নি। শুধু দ্রুত বিচার চেষ্টাতেই কেটে গেছে সাত বছর।
এর আগে আসামিদের একাধিক মামলায় হাজিরা দেয়া, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মামলা নিয়ে উচ্চ আদালতে ছোটা-ছুটিসহ বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হয়েছে মামলা পরিচালনায়।
তবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং মামলার প্রধান কৌঁসুলী বলছেন, এ বছরেই শেষ হবে বিচারকাজ। তবে তাদের এই আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।
২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২২শে আগস্ট মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত হয় তিন দফায়। প্রথম দফায় বিএনপি জামাত সরকারের সময় তদন্ত হলেও, প্রতিবেদন দাখিল না করে মামলাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা হয়।
হামলাকারীদের বাঁচাতে ‘জজ মিয়া’ নাটকেরও অবতারণা করে রাষ্ট্রযন্ত্র। পরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২য় দফায় শুরু হয় তদন্ত।
প্রথম দফায়, ২০০৮ সালের ১১ জুন জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে দুইটি অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। একটি হত্যা এবং অপরটি বিস্ফোরক আইনে। তবে ওই তদন্তে আর্জেস গ্রেনেডের উৎস ও হামলা পরিকল্পনার হোতাদের বিষয়ে কিছু উদঘাটন না হওয়ায় মহাজোট সরকারের আমলে তৃতীয় দফায় শুরু হয় তদন্ত।
দ্বিতীয় দফায়, ২০১১ সালের ৩ জুলাই তদন্ত শেষে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামাত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং এ মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৩০ জনকে নতুন করে অভিযুক্ত করে দুইটি অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি।
তবে সব মিলিয়ে চূড়ান্ত অভিযোগ গঠন করতেই লেগে যায় ৮ বছর।
এরপর বিচার কার্যক্রম শুরু হলেও এ মামলার একাধিক আসামি অন্যান্য মামলায় হাজিরা দেয়ার কারণে বাধাগ্রস্থ হয় বিচারকাজ। সেইসঙ্গে আসামিদের কয়েকজন, উচ্চ আদালত থেকে একটি আদেশ নিতে ২৮২ কার্যদিবস ব্যয় করে।
বর্তমানে এসব বাঁধা দূর হলেও সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাক্ষীর সুদীর্ঘ তালিকা। দুইটি মামলায় সাক্ষী ৪৯১ জন। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাক্ষ্য এখনো নেয়া হয়নি।
যদিও রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলীর পাশাপাশি, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও, শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে এ মামলার বিচার কার্যক্রম।
এদিকে, এগারো বছরেও বিচার শেষ না হওয়ার সংশয়ে বিশেষজ্ঞরা।
মামলা দুটিতে সর্বমোট আসামির সংখ্যা ৫২ জন। যার মধ্যে বর্তমানে কারগারে আছেন ২৫ জন। পলাতক ১৯ আসামি আর জামিনে আছেন ৮ জন।