শ্রম ও অভিবাসন এবং আইন প্রয়োগকারীর সংস্থার পর ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সেবা কার্যক্রমকে দেশের ৩য় শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-টিআইবি।
রোববার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।
টিআইবি পরিচালিত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী ২০১২ সালে এ খাতে ২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা ঘুষের লেনদেন হয়েছে।
জরিপের তথ্যানুযায়ী ভূমি সংক্রান্ত সেবা কার্যক্রমে ৫৯% সেবা গ্রহীতাই অনিয়ম হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার হন। ভূমি অফিসের সঙ্গে যোগসাজসের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থাকা প্রভাবশালীরা এসব অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য দায়ী বলে জরিপে উঠে এসেছে।
ভূমি উন্নয়ন কর, নামজারি থেকে শুরু করে এ সকল ধরনের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০% সেবা গ্রহীতাই কোনো না কোনোভাবে ঘুষের লেনদেন করতে বাধ্য হন।
টিআইবি পরিচালিত জরিপ আরো উঠে এসেছে ২০১২ সালে এ লেনদেনের পরিমাণ ছিল সর্বনিম্ন ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা।
টিআইবি তার প্রতিবেদনে তুলে এনেছে, এ সব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে ভূমি অফিসের এক শ্রণীর কর্মকর্তার পাশাপাশি সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রভাবশালীরা জড়িত।
টিআইবির মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি, ভূমি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা, অপর্যাপ্ত বাজেট এবং জনবলের ঘাটতির কারণেও এ খাতে দুর্নীতি বাড়ছে। এতে অনিয়ম-দুর্নীতির যেমন প্রাতিষ্ঠানিকরণ হচ্ছে তেমনি সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা সামাজিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা ব্যাহত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ প্রতিবেদনের ফলাফলের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ একমত প্রকাশ করেছে।
ভূমি খাত সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, সহকারি ভূমি কমিশনার, দলিল লেখক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ থেকে তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি।