সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ার অজুহাত দিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোকে অযৌক্তিক এবং অন্যায় বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
তাদের দাবি, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কমায় বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও কমে আসার কথা। সে অনুযায়ী কমার কথা বিদ্যুতের দামও।
তাই উল্টো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণ স্পষ্ট করতে সরকারের প্রতি দাবি ভোক্তাদের। পাশাপাশি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার যে প্রভাব দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পড়বে তা নিয়ে এখনই বাড়তি চাপ অনুভব করছেন তারা।
গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের কপালে যেন বাড়তি চিন্তার রেখা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয় বাড়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে মানুষের আয়ে কোন প্রভাব ফেলবে না। তবে এ অজুহাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে দাম বাড়ানো হলো, তাতে বাড়তি ব্যয়ের বোঝা তাদের ওপর ঠিকই চাপবে।
সরকারি কর্মজীবী ছাড়াও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা চাকুরি করেন, তাদেরও অভিযোগ অনেকটা একই রকম। তাদের প্রশ্ন মাত্র ১২-১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের আয়ের হিসেব করে, সবার ওপর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বাড়তি দাম চাপিয়ে দেয়া অযৌক্তিক।
এর আগে ২০১৪ সালে সরকার যখন বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল তখন কারণ হিসেবে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে সামনে আনা হয়েছিলো। সেই ১৩০ ডলারের জ্বালানি তেল এখন ৪০ ডলারেরও নিচে। সে অনুযায়ী, বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি, দামও কমার কথা। কিন্তু উল্টো বাড়ানো হল।
এমনিতেই সাম্প্রতিক সময়ে শাক-সবজি, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে সব কিছুর দামই ঊর্ধ্বমুখী। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, গ্যাস বিদ্যুতের বাড়তি দাম, জিনিস পত্রের দামের উপর যে প্রভাব ফেলবে, সেই চাপ তারা কতটা বহণ করতে পারবে?
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহবান ভোক্তাদের।