জাতীয়

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড

খুনিদের ফেরাতে আশ্রয়দানকারী দেশগুলো সহযোগিতা করছে না

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনতে তাদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলো সহযোগিতা করছে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার দশম জাতীয় সংসদের ৭ম অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী নিয়ে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হবে—বলে জানান শেখ হাসিনা।

এরইমধ্যে ৫ জন দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে— বাকিদের দ্রুত ফেরত এনে রায় কার্যকর করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানের যে দু’জন খুনি পালিয়ে আছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ চাইলে দেশটি থেকে কোনো সহযোগিতা করেনি। আবার উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও কানাডা বা আমেরিকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে দিচ্ছে না। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যে সব দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পালিয়ে আছে ওইসব দেশে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়ে। তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে দুই খুনি আশ্রয় নিলেও সেই দেশ ইতিবাচক কোনো ভূমিকা পালন করছে না। সহযোগিতা করছে না যুক্তরাষ্ট্র-কানাডাও।’

জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।

বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে প্রতিটি জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র বানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তিনি।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গোয়েন্দা বিভাগে ১৭ হাজার বার্তাও প্রকাশের কাজ চলছে বলে জানান।

দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে একাধিকবার নিজের জীবনের ওপর হামলা হলেও কোনো পরোয়া করেন না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অতিরঞ্জিত কিছু না বলে প্রকৃত সত্য তথ্য ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

ফিরে দেখা কিছু কথা:

বিগত ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা দায়েরের সময় অধিকাংশ আসামিই ছিল পলাতক। পরে গ্রেপ্তার করা হয় ৩ জনকে। তারা হলেন সৈয়দ ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশিদ খান, মহিউদ্দিন। এরপরে ব্যাংকক থেকে বজলুল হুদা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে একেএম মহিউদ্দিন আহমদকে এনে কারাবন্দি করা হয়। পরে বিচারের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ৬ আসামির মধ্যে আব্দুর রশিদ ও শরিফুল হক ডালিম পাকিস্তানে, এএম রাশেদ চৌধুরী দক্ষিণ আফ্রিকায়, নূর চৌধুরী আমেরিকায়, রিসালদার মোসলেমউদ্দিন থাইল্যান্ডে এবং আব্দুল মাজেদ কেনিয়ায় পলাতক রয়েছে। আরেক আসামি তবে এ আসামিরা প্রায়ই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেন।

তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হয়েছে বলে জানান ওই সময়ের পুলিশের মহাপরিদর্শক নূর মুহাম্মদ।

ওইসময় তিনি বলেন, তবে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে এ আসামিদের এখনো ফিরিয় আনা সম্ভব।

এছাড়া কমনওয়েলথ কনভেনশন অনুযায়ীও পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানান তিনি।

পলাতক আসামিদের ফেরত আনার জন্য ’৯৬ সালে সরকারি উদ্যোগ নেয়া হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ মহলের কারণে তা আর এগোয়নি বলে জানান সাবেক সচিব ও কূটনৈতিক ওয়ালিউর রহমান।

উল্লেখ, ২০১০ সালে ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর দণ্ডিত পাঁচ খুনি—সুলতান শাহরিয়ার রশিদ, সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, একেএম মহিউদ্দিনের এবং মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি হয়।

১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর এই মামলার প্রথম রায় ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ গোলাম রসুল। তিনি ১৫ আসামিকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন। পরে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিচারপতি রুহুল আমীনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ১০ জনের ফাঁসির রায় বহাল রাখে।

এরপর হাইকোর্টের তৃতীয় বিচারপতি ফজলুল করিম ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনের ফাঁসির রায় বহাল রাখেন।

পলাতক অবস্থায় আরেক আসামি আব্দুল আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন।

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ