গণপরিবহন হিসেবে চলাচলকারী বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১০ পয়সা করে বাড়ছে—জানিয়েছেন সড়ক ও যোগাযোগ সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।
সভা শেষে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ হয়নি। আগের ভাড়াতেই আন্তজেলা বাস চলবে।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর এবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় সিএনজিচালিত বাস, মিনিবাস ও অটোরিকশার ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নগর পরিবহনের বাসের ভাড়া প্রতি কিলেমিটারে ১ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে আর মিনিবাসের ভাড়া ১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ টাকা ৬০ পয়সা।
বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া আগের মতই ৭ টাকা এবং মিনিবাসের ভাড়া ৫ টাকাই রাখা হয়েছে। নতুন হারের ভাড়া কার্যকর হবে ঈদের পর ১ অক্টোবর থেকে।
দুই মহানগরীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্যও নতুন হারের ভাড়া ঠিক করে দিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের অভিযোগ মিটারে অটোরিকশা চলে না।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে অটোরিকশায় দুই কিলোমিটারের জন্য ৪০ টাকা ভাড়া ঠিক করে দেয়া হয়েছে, যা আগে ২৫ টাকা ছিল। এটাই হবে সর্বনিম্ন ভাড়া।
আর এরপর প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ৭ টাকা ৬৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা করা হয়েছে। এর মধ্যে যানজট বা অন্য কোনো কারণে আটকে থাকলে প্রতি মিনিট বিরতির জন্য গুণতে হবে ২ টাকা করে, যা আগে ১ টাকা ৪ পয়সা ছিল।
অটোরিকশা চালকদের জন্য দৈনিক জমার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। অটো মালিককে তাদের প্রতি দিন দিতে হবে ৯০০ টাকা, যা এতোদিন ৬০০ টাকা ছিল।
বিআরটিএর হিসাবে রাজধানীতে
১০৩ রুটে গণপরিবহন হিসেবে চলাচলকারী বাসের সংখ্য ৬ হাজার ৪৩৫টি। এর মধ্যে মাত্র ২০ ভাগ গ্যাসচালিত। আগে এই সংখ্যা প্রায় ৮০ ভাগ ছিল। গ্যাস পেতে লম্বা লাইন ও বাসের আয়ুষ্কাল বাড়াতে কয়েক বছরে অধিকাংশ বাস সিএনজি থেকে ডিজেলে রূপান্তর করা হয়।
ভাড়া বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, বিআরটিএ ভাড়া নির্ধারণ করেছে একটি বাসে ২০ ভাগ আসন খালি ধরে। মিনিবাসে আসন ধরা হয়েছে ৩২টি। বাসে আসন ধরা হয়েছে ৪০টি। মিনিবাসে কারসাজি করে আসন বানানো হয় ৪২টি। বড় বাসে থাকে ৫০ এর বেশি। ঢাকায় কোনো বাসেই আসন খালি থাকে না। দাঁড়ানো যাত্রীর সংখ্যাও কম নয়। ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি ২৫ জন যাত্রী ধরে ভাড়া হিসাব করলেও যাত্রী থাকে ৫০ জন। ভাড়া না বাড়িয়ে বরং কমানো উচিত।
তিনি অভিযোগ করেন, ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে মালিক প্রতিনিধি থাকলেও যাত্রী প্রতিনিধি না থাকায় যাত্রী স্বার্থ রক্ষা হয়নি।
বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) নুরুল ইসলাম জানান, ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি বাসের ১৭টি পরিচালনা ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।