শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও এনবিআর জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা। তবে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা আজই-সোমবার জানানো হবে—জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেয়ার কিছু নেই—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে জানিয়েছেন— ধারণা করা হচ্ছে ওই নির্দেশনার কথা যে কোনো সময় সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে যথাসময়ে তা জানিয়ে দেয়া হবে— এটা কেবিনেটের বিষয় নয়। কেবিনেটে কোনো আলোচনা হয়নি, তবে অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ও কথা বলেছেন— মানে, সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, নিকারের বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেলা আড়াইটার দিকে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে নিজের দপ্তরে যান। সেখানে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে চেয়ারম্যান এনবিআরে গিয়ে এ বিষয়ে ব্রিফ করতে পারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।
সচিব বলেন, ভ্যাট প্রত্যাহার বিষয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে একটি স্ক্রল প্রধানমন্ত্রীসহ সবারই দৃষ্টিগোচর হয়েছে— কিন্তু বলতে চাই, এ সম্পর্কে কেবিনেটে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা কেবিনেটের বিষয় নয়।
ভ্যাট প্রত্যাহারের কথাটি কে জানাবেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী নিজেও জানাতে পারেন, যেহেতু বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এখতিয়ার সেহেতু তাদের মাধ্যমেও আসতে পারে।
এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা শুরু হয়।
জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন তিনি।
গত ১৩ জুলাই থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার থেকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।